অক্সিজেনের অভাবে প্রাণ হারাল মমতাজ

সারাবাংলা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
অক্সিজেনের অভাবে খানপুর কভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে মমতাজ বেগম (৫১) নামের এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিহতের স্বজনরা উত্তেজিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশের হস্তক্ষেপ নিয়ে ঘটনা সামাল দিয়েছে। নিহত মমতাজ জালকুড়ি পশ্চিম পাড়া এলাকার মো. জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী।  বিকেল তিনটার দিকে আইসিউইতে এই ঘটনাটি ঘটে। নিহতের পুত্র মো. সৌরভ জানান, তার মা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পর গত মাসের ২৯ তারিখে কভিড-১৯ ডেডিকেটেড এই হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারপর মমতাজ বেগমকে আইসিইউতে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু আইসিউইতে নেয়ার পর থেকেই অক্সিজেন সংকট শুরু হয়। গতকাল সকাল থেকেই অক্সিজেন সংকট তীব্র আকার ধারণ করে। এতে করে রোগীদের অক্সিজেন চাপ কমিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে বিকাল তিনটার দিকে মারা যায় মমতাজ বেগম।
সৌরভ আরো জানান, তার মাকে এই হাসপাতালের আইসিউতে ভর্তির সময় এই হাসপাতালের স্টোর কিপার মাহাবুবকে তিন হাজার টাকা নিয়ে ছিলেন। তার অভিযোগ ওই সময় মাহাবুব অভয় দিয়ে বলেছিলেন অক্সিজেনের জন্য আপনি কোন চিন্তা করবেন না। আপনার মার জন্য অক্সিজেনের স্পেশাল ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু গতকাল সকাল থেকেই অক্সিজেন পাওয়া যাচ্ছিল না। তখন হাসপাতালের মাহাবুব আমাকে দেখে এরিয়ে যান। পরবর্তিতে রোগীর স্বজনরাই অক্সিজেন খোজতে শুরু করেন এমনটাই জানিয়েছেন তারা। বাংলদেশ মেডিকেল এসোশিয়শেনের নারায়ণগঞ্জ জেলা সহ-সভাপতি ও কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালের আরপি ডাক্তার শামসুজ্জোহা সঞ্চয় জানান, আসলে অক্সিজেন সংকটের বিষয় না। আইসিইউতে যে সমস্ত রোগী ভর্তি হয় তারা গুরুতর অসুস্থ হয়েই এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছে। এখনও সব রোগীর বেডের সাথে অক্সিজেন চলছে। ঢাকা থেকে আরো অক্সিজেনের বোতল আনা হচ্ছে। তবে সেন্টাল অক্সিজেনের ব্যবস্থা থাকলে রোগীর স্বজনরা এই অভিযোগ করতে পারতো না। স্টোর কিপার মাহাবুব টাকা নিয়েছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে এই হাসপাতালেকে ব্যাবসায় পরিণত করবে তা বরদাস্ত করা হবে না। সে যে কেউ হোক। অভিযোগকারি হাসপাতাল বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। ডা. সঞ্চয় আরো বলেন, আপনারা জানেন, ঢাকার অনেক হাসপাতালে এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। আমাদের এখানে কেউ এধরনের কিছু করলে রক্ষা নেই। আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এই ডেঞ্জার সময়েও রোগীদের সেবা করে যাচ্ছি। কোন বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। তবে এই বিষয়টি নিয়ে তত্ত্বাবধায়কের সাথে আলোচনা করে দোষী হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *