অটো রিকশার দখলে ময়মনসিংহ নগরী করোনা সংক্রমণে রেকর্ডের আশঙ্কা

সারাবাংলা

এমএ আজিজ, ময়মনসিংহ অফিস:
ঈদকে সামনে রেখে টানা লকডাউন তুলে দেওয়ার প্রথমদিন  বৃহস্পতিবার যানজটের নগরী ছিল ময়মনসিংহ। এমন কোন রাস্তা, অলিগলি নেই যেখানে যানজট নেই। যেন ছিল অটো আর রিকশার নগরী। মানুষজন প্রথমে অটো বা রিকশায় চড়লেও কয়েক কদম যাওয়ার পর আবারো হেটে পথচলার চেষ্টা করে। কিন্তু কিভাবে পথ চলবে। পথ বা রাস্তা তো অটো বা রিকশার দখলে। পহেলা জুলাই থেকে টানা কঠোর লকডাউন বুধবার ১৪ জুলাই শেষ হয়। এর আগেই মানুষের মনে শঙ্কা ছিল ঈদের আগে কি লকডাউন উঠে যাবে না ঈদেও লকডাউন থাকবে। কিন্তু সরকার ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন তুলে দেয়। দীর্ঘদিন ঘরে আটকে থাকা মানুষজন লকডাউন তুলে দেয়ার খবরে বিশ্ব জয় করার মানসিকতা নিয়ে ১৪ জুলাই থেকেই ফুরফুরে মেজাজে নগরীতে নামতে শুরু করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যানজটের নগরী ময়মনসিংহ। অটো আর রিকশা দখলে নিয়েছে এই নগরীকে। নগরীর কোনো রাস্তায় চলাচল করা যায়নি। অসংখ্য মানুষজন নিজ এলাকা থেকে নগরীর প্রাণ কেন্দ্র গাঙ্গিনার পাড় ঢুকতে রিকশা ও অটো নিয়ে আসলেও দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকা পড়ে। জ্যামে আটকা পড়ে এই সব রিকশা ও অটো চালকরা প্রখড় রৌদে মাথায় হাত দিয়ে রিকশাতেই বসে থাকে। রিক্সা চালকদের দাবি তারা আজ (বৃহস্পতিবার) দু’চারটে ভাড়ার (পেসেঞ্জার) বেশি উঠাতে পারেনি। যে রোডেই যান দীর্ঘ সময়, এমনকি আধঘণ্টারও বেশি সময় আটকে থাকে। এমন অবস্থায় পেসেঞ্জার নেমে গেলেও খালি রিকশা নিয়ে জ্যামের কারণে বের হতে পারছেন না চালকরা। তাদের দাবি, ঈদের আগে এত জ্যাম থাকলে কিভাবে রিকশার মালিকের জমা দেবেন। আর কিভাবেই দেবেন তাদের সন্তানদের মুখে দুই বেলার আহার। নগরীর সিকেঘোষ রোডে এক রিকশা চালক বলেন, আধঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্যামের কারণে রাস্তায় বসে আছি। পেসেঞ্জার ভাড়া দিয়ে নেমে গেছে। কিন্তু আমি তো খালি রিকশা নিয়ে বের হতে পারছি না। অপরদিকে এ প্রতিবেদক গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গাঙ্গিনার থেকে কাচারী রোডে গেলে পড়ে বিড়ম্বনায়। দীর্ঘ সময়ে দুর্গাবাড়ি হয়ে আঠারবাড়ি মোড়ে রিকশাায় চড়ে গেলেও পরে বাধ্য হয়ে পায়ে হেটে পথ চলা শুরু করেন। জ্যামের কারণে পায়ে হাটার পথ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ প্রতিবেদক নানা কৌশলে কোনরকমে গন্তব্যে পৌঁছেন। একইভাবে এ প্রতিবেদক নগরীর জিরো পয়েন্ট থেকে জুবিলীঘাট বিপীন পার্ক মোড় হয়ে ছোট বাজার রিকশাায় আসতে গিয়ে আবারো পড়েন বিপাকে। এ সময় সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে তিনি আবারও কোনো রকমে পায়ে হেটে পথ চলেন। এদিকে গাঙ্গিনারপাড়ের অবস্থা বলতে গেলে, যেন আজই শেষ দিন। আর কোন দিন গাঙ্গিনার পাড় এলাকার দোকানপাঠ খুলবে না। পায়ে হাটার সুযোগ পর্যন্ত নেই ঐ এলাকায়। দুপুরে এ অবস্থা চলতে থাকায় নগরীর জেলা স্কুল মোড়, চরপাড়া, র‌্যালীর মোড় ও জুবিলীঘাট রোড নাম বললেই রিক্সা ও অটোচালকরা সাফ জানিয়ে দেন, না ঐ সমস্ত এলাকায় যাওয়া যাবেনা। এ অবস্থায় সিংহভাগ মানুষ চরপাড়া মেডিকেল কলেজ গেইট, ফুলবাড়িয়া পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, র‌্যালীরমোড়, ব্রীজমোড়, টাউনহল মোড় থেকে পায়ে হেটে গাঙ্গিনার পাড়ে আসতে বাধ্য হন। পায়ে হেটে আসা লোকজনের একাধিকের মতে, পায়ে হেটে চলতেও ফাকা নেই রাস্তা। আবার অনেকেই পায়ে হেটে চলতে গিয়েও রিক্সা, অটো, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। বিকাল চারটার দিকে জ্যাম কিছুটা কমতে শুরু করলেও বিকাল ৫টার দিকে যেন আবারো মানুষজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। মনে হয় নগরবাসি ও জেলাবাসি একযুগে বাসা থেকে বের হয়ে কি যেন আর পাবেনা এমন আশায় হুমড়ি খেয়ে পড়ে।
গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর এ অবস্থা দেখে আবারো মানুষজনকে ভাবিয়ে তুলেছে। মানুষজন করোনাকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যেভাবে ঘর ছেড়ে কেনাকাটায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন এতে আসছে ঈদ পরবর্তী ময়মনসিংহে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। অভিজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট কোমলমতি, শিশু, কিশোর, নারী, বয়োবৃদ্ধরা কোন কিছুই মানছে না। তারা করোনাকে গা ছাড়া ভাব দেখিয়ে ঘর ছেড়ে এসেছে দোকানপাঠ, শপিংমলগুলোতে। কোন দোকানে পা ফেলার জায়গা নেই। নেই মুখে মাস্ক। মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধির বিন্দুমাত্র লেশ। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ময়মনসিংহে করোনাক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে কোথায় দাড়াবে তা বলা মশকিল। এ ব্যাপারে করণীয় নিয়ে ব্যবসায়ী সংগঠন, ব্যবসায়ী নেতারা, সিটি কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে নতুন করে ভাবতে হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *