অনলাইনে জনপ্রিয় হচ্ছে নিরাপদ সবজি

সারাবাংলা

রাসেল হোসেন, ধামরাই থেকে:
ঢাকার ধামরাইয়ে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে কৃষক ব্যবহার করছে নিজের তৈরি জৈব সার। এতে বাড়তি ফলনসহ কৃষক পাচ্ছে বিষমুক্ত সবজি। বাজারে বিষমুক্ত সবজির চাহিদা যেমন বেশি দাম ভালো। এতে কৃষরা লাভবান হচ্ছে বেশি। বিষমুক্ত সবজি চাষে কৃষকদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতায় করছে উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, ধামরাই উপজেলায় এবার ৫শ কৃষক প্রায় ৫শ বিঘা জমিতে নিরাপদ সবজি চাষ করছেন। আগামীতে এর সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা কৃষি কর্মকর্তার। ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চাষ হয় বিভিন্ন প্রকারের সবজি। তবে উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে নিরাপদ সবজি। নিরাপদ সবজির রয়েছে স্থানীয় বাজারে ও অনলাইন সহ ঢাকাতে আলাদা মার্কেট। নিরাপদ সবজির চাহিদা রয়েছে বেশ। তাই এখন মাঠে মাঠে চাষ হচ্ছে নিরাপদ সবজি। প্রতিনিয়ত অনলাইনে জনপ্রিয় হচ্ছে ধামরাইয়ের নিরাপদ সবজি। উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, বাণিজ্যিক ভাবে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করায় ইতোমধ্যে সানোড়া ইউনিয়নকে আইপিএম মডেল ইউনিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে খরচ কম, ফলন ভালো সেই সঙ্গে দামও ভালো। ফলে দিন দিন সবজি চাষে ব্যবহার বাড়ছে নিজেদের তৈরি জৈব সার। আরও জানা যায়, ৫শ কৃষক-কৃষাণী পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন প্রকল্পের আওতায় আইপিএম মডেল ইউনিয়নের ৫শ কৃষক-কৃষাণীর মাধ্যমে বিষমুক্ত নিরাপদ সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। এখানে লাল শাক, মূলা শাক, টমেটো, ফুল কপি, বাঁধাকপি, মরিচ, বেগুন, স্কোয়াশ, চিচিঙ্গা, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ধুন্দুল, ঝিঙা, শসা প্রভৃতি সবজির বীজ, জৈব সার, জৈব বালাই নাশক, নেট হাউজ এবং জৈব বালাই ব্যবহারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রত্যেক কৃষক ২০ শতাংশ জমিতে সবজি চাষ করতে যা লাগে কৃষি অফিস তা সরবরাহ করছে। ২০টি পক্ষকে ২০টি উন্নত মানের ভ্যান দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে পরাগায়নের জন্য মৌ বক্স স্থাপন করে দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ সবজি চাষী আনোয়ার হোসেন বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় আমরা এখন বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদন করছি। আমরা আগে সবজি উৎপাদনে নানা প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করতাম এখন করি না। এখন নেট হাউজ পদ্ধতি, সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ও নিজেদের তৈরি জৈব সার ব্যবহার করছি। রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করায় সবজি বিক্রির কোনো চিন্তা থাকছে না বরং থাকতে পারছি সুস্থ। আর নিরাপদ সবজি উৎপাদন করায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের সবজি বাজারে নেওয়ার জন্য প্রতি ২০ জনকে একটি করে ভ্যান দিয়েছে। আর সবজি বিক্রির জন্য আলাদা মার্কেট করে দিয়েছেন। কীটনাশক ব্যবহার না করায় এখন ঘুম হয় ভালো হওয়ার শরীল থাকে সুস্থ। এ বিষয়ে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজাহার আলী বলেন, আমার আড়তে দুটি দোকান রয়েছে যেখানে বিষ মুক্ত সবজি বিক্রি করা হয়। কোনো কৃষক তার সবজি নিয়ে ফিরে যায় না। চাহিদাও প্রচুর। এ ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুল হাসান জানান, চাষিদের আইপিএম মডেল ইউনিয়ন প্রকল্পের আওতায় বীজ, জৈব সার, জৈব কীটনাশক দেওয়ার পাশাপাশি যাতে কোনো প্রকার রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার না করে সেই জন্য সেক্স ফেরোমন ফাঁদ সহ নেট হাউজ করে দেওয়া হয়েছে। যারা নিরাপদ সবজি উৎপাদন করেছেন তাদের সবজি বাজারে নিতে প্রতি, ২৫ জনের একটি পক্ষকে একটি করে ভ্যান দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নিরাপদ সবজি বিক্রির জন্য ডাউটিয়ায় চেয়ারম্যান আড়ৎদের একটি মার্কেট করে দেওয়া হয়েছে। ধামরাইয়ের বিষ মুক্ত সবজির ঢাকাতে আলাদা একটি কৃষকের বাজার নামে বাজারসহ রয়েছে অনলাইন মার্কেট। আর এই বিষ মুক্ত সবজি অনলাইনে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *