বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনামঃ
পর্দা উঠল অমর একুশে বইমেলার শুরু হলো ভাষার মাস প্রস্রাবে দুর্গন্ধ? কঠিন অসুখে ভুগছেন না তো? ‘টেক্সওয়ার্ল্ড ইউএসএ ২০২৩’-এ ১০টি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে পৃথিবীর আকাশে বিরল সবুজ ধূমকেতু জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ বিশ্ব দুর্নীতি সূচকে দেশকে একধাপ নামানো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত : তথ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের বাংলা সংস্করণ উদ্বোধন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন-বরণ অনুষ্ঠিত রাঙ্গামাটিতে শেখ কামাল আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসা এ্যাথলেটিকসের উদ্বোধন ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে : নেতানিয়াহু কি আছে পাঠানে? রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উন্মোচন কোরআন অবমাননার ঘটনায় রাষ্ট্রদূতদের তলব দাবি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তরের নতুন উপপরিচালক ডা.সঞ্জীব জাপান বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে আগ্রহী অঙ্গদানকারী সারাহ ইসলামের মৃত্যু নাই : বিএসএমএমইউ উপাচার্য যশোর আইটি পার্ক হোটেলের আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলুন : রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না : শেখ হাসিনা ২৬ টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে স্মার্ট বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর, সারদায় পৌঁছেছেন শেখ হাসিনা রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা আজ, উদ্বোধন হবে ২৫ প্রকল্প আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাপানে যাওয়ার সুযোগ নেই দুই শিশুর : আইনজীবী এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ ৮ ফেব্রুয়ারি বিপিএলে মাশরাফির অনন্য মাইলফলক বেভারলি হিলসের কাছে বিলাসবহুল বাড়ির পার্টিতে তিনজনকে গুলি করে হত্যা সানির পরিকল্পনায় ক্যানসার সচেতনতায় গাইলেন ১২ শিল্পী জাজিরায় সংরক্ষণযোগ্য হালি পেঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে

অনলাইনে ৬৪ শতাংশ নারী হয়রানির শিকার

অনলাইন ডেস্ক :
রবিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২২, ৬:০৩ অপরাহ্ন

ঢাকা প্রতিদিন নারী ও শিশু ডেস্ক : বাংলাদেশে ৬৪ শতাংশ নারী অনলাইনে হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের এক সমীক্ষায় এমন তথ্য ওঠে এসেছে।

২০২২ সালে করা ওই সমীক্ষা অনুসারে, ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ নারী (উত্তরদাতা) বলেছেন-তারা অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন। গত বছরে যা ছিল ৫০ দশমিক ১৯ শতাংশ।

১৬ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উদ্যাপন উপলক্ষ্যে রোববার ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা: বাধা এবং উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সাতক্ষীরা, সুনামগঞ্জ, পটুয়াখালী, বান্দরবান, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে অনলাইন জরিপের মাধ্যমে সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়। সেখানে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি ৩৫৯ জন নারী অংশ নেন।

সমীক্ষায় বলা হয়, ২০২২ সালে নারীদের বেশিরভাগই বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফরম বিশেষ করে ফেসবুক (৪৭.৬০%), মেসেঞ্জার (৩৫.৩৭%), ইনস্টাগ্রাম (৬.১১%), ইমো (৩.০৬%), হোয়াটসঅ্যাপ (১.৭৫%) ও ইউটিউবে (১.৩১%) হয়রানির সম্মুখীন হয়েছে।

৪ দশমিক ৮০ শতাংশ নারী বলেছে, ভিডিও কল, মোবাইল ফোন এবং এসএমএসের মাধ্যমেও তারা হয়রানির সম্মুখীন হয়েছেন।

এ বছরের সমীক্ষায় দেখা গেছে-৮০ দশমিক ৩৫ শতাংশ নারী অনলাইনে সহিংসতার মধ্যে ঘৃণ্য ও আপত্তিকর যৌনতাপূর্ণ মন্তব্য, ৫৩ দশমিক ২৮ শতাংশ নারী ইনবক্সে যৌনতাপূর্ণ ছবি প্রদান এবং যৌন সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব, ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ নারী বৈষম্যমূলক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন।
১৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন-তাদের নামে অন্য কেউ অনলাইনে নকল আইডি খোলায় তারা হয়রানির শিকার হয়েছে।

১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ বলেছে-তাদের কার্যকলাপ সব সময় অনুসরণ করা হয় এবং ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ সমকামীদের অধিকার নিয়ে কথা বলায় ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে, ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বলেছে-তাদের ব্যক্তিগত ছবি অনুমতি ছাড়াই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়েছে এবং ১১ দশমিক ৭৯ শতাংশ যৌন নিপীড়নের হুমকি পেয়েছে।

৩ দশমিক ৬ শতাংশ উত্তরদাতাদের মতে, যৌন নিপীড়নের সময় তাদের ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা হয় এবং সেগুলো পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা হয়। ২ দশমিক ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন-তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি গোপনে পোস্ট করা হয় এবং পরে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বলেছে-তাদের ছবি সম্পাদনা করে পর্নোগ্রাফি সাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়, অনলাইন সহিংসতায় নারীদের জীবনে গুরুতর প্রভাব হলো মানসিক আঘাত, হতাশা ও উদ্বেগ (৬৫.০৭%)। দ্বিতীয় প্রভাব হলো সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকা বা মতামত প্রকাশ করায় আস্থা হারানো (৪২.৭৯%)। ২৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ ট্রমার শিকার হয়েছেন এবং ২৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ আত্মমর্যাদা হারিয়েছে।

সমীক্ষায় বলা হয়, অনলাইন সহিংসতা এবং হয়রানির কারণে সৃষ্ট মানসিক যন্ত্রণা নারীর আত্মবিশ্বাস এবং স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে সংকুচিত করেছে। ১৪ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে এবং ৮৫ শতাংশেরও বেশি ভুক্তভোগী অভিযোগ না দিয়ে নীরব ছিলেন।

অভিযোগকারীদের মধ্যে ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া রিপোর্টিংয়ের মাধ্যমে, ২০ দশমিক ৫৯ শতাংশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেনের ফেসবুক পেজের মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ জাতীয় জরুরি পরিষেবার (৯৯৯) মাধ্যমে, ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ থানায়, ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ সাইবার ক্রাইমের ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন, সিটিটিসি ও ডিএমপির মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন।

সমীক্ষায় উত্তরদাতারা অনলাইন হয়রানি, অপব্যবহার এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং দ্রুত শাস্তি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা, প্রশিক্ষণ এবং নিরাপদ ডিজিটাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করা এবং রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রতি অভিমত দিয়েছেন।
ঢাকা প্রতিদিন/এআর


এই বিভাগের আরো খবর