অনুমোদনহীন ইউনানীর কোম্পানির রমরমা ব্যবসা

সারাবাংলা

সৈয়দ আকতারুজ্জামান রুমী, পাবনা থেকে : সরকারি অনুমোদন ছাড়ায় গড়ে উঠেছে ইউনানী ওষুধ কোম্পানি। নাই কোনো ঔষধ প্রসাশনের নীতিমালা। তৈরি করছে, বেদনানাশক, গ্যাষ্টিক, শ্বাসকষ্ট, যৌনউত্তেজনার মত জীবন ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ। পাবনায় হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে এসব ওষুধ যে কোন ফার্মেসিতে। জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার মালঞ্চি ইউনিয়নে মালঞ্চি বাজার সংলগ্ন একটি বাড়িতে ২০১৪ সালে মেসার্স ইউনিফিল ফার্মাসিউটিক্যালস্ নামে ইউনানী কোম্পানি চালু হয় যার উৎপাদন লাইসেন্স নং ইউ- ০০৫ কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মহসিন বিশ্বাস। গত ৫/৬ মাস আগে অবৈধ কারখানাটিতে অভিযান পরিচালনা করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট ৫ জন কর্মকর্তাক ও হাকিম মো. শরিফকে গ্রেফতার করেন পরে তারা আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় উৎপাদন শুরু করে। অবৈধ কারখানাটির বিষয় পাবনা ওষুধ প্রসাশন অবগত করলেও কোন পদক্ষেপ গ্রহন না করায় গ্রামবাসি ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে। কখনো দেখা যায় কারখানাটির কর্মচারিরা ভিতরে কাজ করলেও বাহির থেকে গেটে তালা লাগানো থাকে আবার দেখা গেছে, ভেেোর কাজ শুরু করে এবং সকাল ৯/১০ টা পর্যন্ত কাজ করে বন্ধ রাখে। জানা যায় ২০১৬ সালে কোম্পানিটির উৎপাদন মেয়াদ শেষ হয়। ২০১৯ সালের ২ এপ্রিল ঔষধ পরিদর্শক দলের সদস্য ড. খোন্দকার ছগীর আহম্মেদ পরিচালক ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ঢাকা, মো. আশরাফ হোসেন, সহকারী পরিচালক, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ঢাকা, কে এম মুহসীনিন মাহবুব, ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক ওষুধ প্রশাসন পাবনা ও ঢাকা ওষুধ অধিদপ্তরের ইউনানী বিশেষজ্ঞ এস আই চিশতী কোম্পানিটি পরিদর্শন করেন এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে আবাসিক বাসাবাড়ি হিসাবে ব্যবহার করা হয় না এমন একটি স্বতন্ত্র ভবনে কারখানা স্থানান্তর করিতে হইবে, কারখানায় কর্মরত সকল রজনবলের জব ডেসক্রিপশন প্রণয়ন এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারী/শ্রমিকদের জিএমপি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ট্রেনিং ম্যানুয়াল প্রণয়ন, ট্রেনিং সিডিউল অনুযায়ী ট্রেনিং প্রদানপূর্বক মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহনসহ এ সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণ করিতে হইবে, হার্বস ক্রাসিং রুমের ফ্লোর সংস্কার করতঃ উৎপাদন সংশ্লিষ্ট এলাকার ফ্লোরে ইপোক্সি কোটিং করিতে হইবে, কারখানায় একটি আধুনিক ডিএম প্লান্ট স্থাপন করাসহ পানির ভৌত ও রাসায়নিক পরিক্ষা করতঃ রেকর্ড সংরক্ষণ করাসহ সরকারি ১৪ টি নীতিমালা পূরণপূর্বক ইউনানী ওষুধ উৎপাদন লাইসেন্স পূর্বানুমোদিত পদসহ নবায়নে পরামর্শ দেন। এর পর থেকে কোম্পানির পরিচালক অনুমোদন নবায়ন না করে প্যানাভিন, রোসাফি, ইরিনা, নিরল, মোরিভাস, মিলো, এন্টিডাই, বিলোক্যাপ, কোরিজিন, রোমা, নিফিল, জোরাগ, ফিরলা, এ্যাগি, জিগরাসহ মোট ২৬ টি প্রোডাক্টস্ বাজারজাত করে আসছে। দেখা গেছে এ ব্যান্ডের প্রোডাক্টস গুলো পাবনার শহর গ্রাম,গঞ্জ ছাড়াও বিভিন্ন জেলাতে বিক্রি হচ্ছে, হাত বাড়ালেই সহজেই মিলছে যৌনউত্তেজনার মত জীবন ঝুকিপূর্ণ ওষুধ। লক্ষ করা গেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অন লাইনে কোম্পানিটির এ্যাড দিয়ে প্রচার করে বিক্রি করছে বিভিন্ন প্রডাক্টস এতে যেমন বৈধ কোম্পানির লোকসান গুনতে হচ্ছে তেমন সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব আয়। যে কোনো ওষুধের দোকানে চাহিবার মাত্র পাওয়া যায়। এ বিষয় পাবনা ওষুধ প্রশাসনের সহকারী পরিচালক সুকর্ণ আহমেদ জানান, আমি পাবনাতে কয়েক মাসে দায়িত্ব গ্রহন করেছি এখনো সব গুছিয়ে উঠতে পারি নাই, অফিসে জনবলেও সংকট, আমার জানা মতে পাবনাতে ৩০ থেকে ৩৫টি অবৈধ কোম্পানি গড়ে উঠেছে পর্যায় ক্রমে এগুলোকে আইনানুগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *