অনুমোদন ছাড়াই অর্ধশতাধিক গাছ কাটলেন ইউএনও

সারাবাংলা

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ থেকে :
মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের অর্ধশতাধিক গাছ কেটেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইমরুল হাসান। গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহেগনি, আকাশমনি, ইউক্লেক্টার, কড়ই, বট ও নারিকেল। এর মধ্যে শতবর্ষী একটি বট গাছও রয়েছে। তবে বন বিভাগ থেকে বাধা দেওয়ায় তিনি সেগুলো বিক্রি করতে পারেননি। এখন সেসব গাছ দিয়ে পরিষদের ফার্নিচার বানানোর পরিকল্পনা করছেন ইউএনও মো. ইমরুল হাসান। ইউএনও মো. ইমরুল হাসান বলেন, বৈদ্যুতিক লাইনের ক্লিয়ারেন্স রাখার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজন গাছগুলো কেটেছে। এ বিষয়ে উপজেলা পরিবেশ ও বন কমিটি রেজুলেশনের মাধ্যমে গাছ কাটার অনুমোদন করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা পরিবেশ ও বন কমিটির সভাপতি ইউএনও নিজেই।

চলতি বছরের ২২ নভেম্বর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঘিওর আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মাহবুবুর রশীদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বৈদ্যুতিক লাইনের নিকটস্থ গাছের ডালপালা কর্তনে সহযোগিতা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা বন কর্মকর্তার কাছে ওই পত্রের অনুলিপি দেওয়া হয়।

এর আগে, ২৬ নভেম্বর ইউএনও মো. ইমরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়, ২৮ নভেম্বর উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে বৈদ্যুতিক লাইনের নিকটস্থ গাছের ডালপালা কর্তন করা হবে। উক্ত কাজ পর্যবেক্ষণ, তদারকি ও সহযোগিতা করার জন্য উপজেলার ১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে উপজেলা বন কর্মকর্তাকে সার্বিক তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে সেদিন ইউএনও মো. ইমরুল হাসানও উপস্থিত ছিলেন। গাছ কর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মাহবুবুর রশীদ বলেন, আমরা বৈদ্যুতিক লাইনের নিকটস্থ গাছের ডালপালা কেটেছি। কোন গাছ কাটা হয়নি। তবে কে বা কারা গাছগুলো কেটেছেন সে বিষয়ে আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা বন কর্মকর্তা মহসীন হোসেন বলেন, উপজেলা পরিষদের গাছ কাটার জন্য লিখিত কোন অনুমোদন ছিল না। ইউএনও’র উপস্থিতিতে গাছগুলো কাটা হয়েছে। এ বিষয়ে মৌখিকভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। ‘বৃক্ষ সংরক্ষণ বিল, ২০১২’ অনুযায়ি, সরকারের অনুমতি ছাড়া বন, সড়কের পাশের ও পাবলিক প্লেসের গাছ কাটলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদন্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। বিলের ৩ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারি বনভূমি বা পাবলিক প্লেসের কোন গাছকে পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র সংরক্ষণের স্বার্থে বিধি দ্বারা নির্ধারিত সংরক্ষণযোগ্য গাছ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। বিলের ৪ ধারার ২ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, সরকার যদি সংরক্ষণযোগ্য কোন গাছ কাটার অনুমতি দেয় তবে শর্ত হিসেবে প্রতি একটি গাছ কাটার বিপরীতে তিনটি গাছ লাগানোর শর্ত দিতে হবে।

 

বিলের ৫ ধারায় বলা হয়েছে- কোন ব্যক্তি এ আইনের লঙ্ঘন করলে বা সহায়তা করলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানায় দন্ডিত হবেন। আরও বলা হয়েছে- যদি কোন সরকারি দফতর বা বিভাগের কেউ এ আইন লঙ্ঘণ করে তবে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ও ওই বিভাগের প্রধানকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *