অন্যের জমি দখলের চেষ্টা ॥ জাল দলিল কাল হলো খলিলের

সারাবাংলা

আশুলিয়া প্রতিনিধি:
সাভারের আশুলিয়ায় জাল দলিল তৈরি করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার জমি দখলের চেষ্টা করেছে মো. খলিলুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। এঘটনায় সিআইডির প্রতিবেদনে জাল দলিলের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতারক খলিলের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন বিজ্ঞ আদালত। জানা যায়, গত ২০২০ এর ৭ জুলাই দেওয়ান মো. মেহেদী মাসুদ মঞ্জু বিজ্ঞ আদালতে মো. খলিলুর রহমানের নামে একটি প্রতারক, ঠকবাজ ও জাল জালিয়াতির একটি অভিযোগ দায়ের করেন। জিরাবর তৈয়বপুর মৌজায় অবস্থতি খতিয়ান-৬-৪, এস.এ খতিয়ান-১০২ আর.এস খতিয়ান-২২৪, সিএস ও এস.এস দাক নয়-২৮২, আর.এস দাগ নং-১০৫৭ এর আর এস রেকর্ডীয় জমির মালিক ও দখলদার ছিলে মুঞ্জু দেওয়ানের দাদা তাজ আলী দেওয়ান। পরে সেই জমি পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ের নামের জীবিত ওয়ারিশদার রেখে ১৯৬৮ সালের ২ আগস্ট মারা যান। পরবর্তীতে মুঞ্জু দেওয়ান সেই সব ওয়ারিশদের কাছ থেকে আম-মোক্তার নানা দলিলের মাধ্যমে সেই জমি দেখাশুনা, রক্ষনাবেক্ষণ করে আসচ্ছে। তবে আসামি মো. খলিলুর রহমান ও তার দুই ছেলে দেওয়ান মো. ইউনুস এবং দেওয়ান আ: মান্নান তাজ আলী দেওয়ানের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে জাল দলিলের মাধ্যমে ১০৬ শতাংশ জমি মালিক দাবি করে দখল নিতে আসে। এসময় সেই জাল দলিল ফটোকপি করে মুহুরী নকল উত্তোলন করতে গেলে তার কোনো অস্তিত পাওয়া যায়নি। সেই দলিলে তাজ আলী দেওয়ানকে জীবিত দেখানো হলেও তিনি মারা যান অনেক আগেই। এসব বিষয়ে উল্লেখ করে বিজ্ঞ আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়।
এই মামলাটির দায়িত্ব পায় সিআইডির পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুস সাত্তার মোল্লা। তিনি বিজ্ঞ আদালতে আদেশ নামা পেয়ে চলতি বছরের গত ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেই প্রতিবেদন খলিলুর রহমান জাল দলিল করেছে সেটি প্রমাণিত হয়। পরে বিজ্ঞ আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এ বিষয়ে দেওয়ান মো. মেহেদী মাসুদ মঞ্জু বলেন, তারা জাল দলিল করে আমার সম্পতি দখল করতে বারবার থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে। এ ছাড়া আমার দাদা তো অনেক আগেই মারা গেছে। তারা আমার দাদাকে জীবিত দেখিয়ে জাল দলিল তৈরি করেছে। আমি আমার ওয়ারিশদের থেকে জমি ক্রয় করে নিয়েছি, তবুও সে আমার জমির জাল দলিল করে দাবি করে। এ ব্যপারে অভিযুক্ত খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এই জমিতে আমি দীর্ঘদিন থেকে মাছ চাষ করে আসছি। হঠাৎ করে মুঞ্জু দেওয়ান জমির মালিকানা দাবি করে। সে বর্তমানে বড় নেতা তার ক্ষমতা দেখায়। আমার নামে সে মামলাও করেছিল সিআইডিতে, পরে আমি জামিনে আছি বর্তমানে। সিআইডির সেই কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার মোল্লা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের মতামতে বলেছেন, মামলার তদন্ত কালে প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে খলিলুর রহমান, বিপন্দ বাজন দত্ত (দলিল লেখক), দেওয়ান সিদ্দিক পরস্পর যোগসাজসে আর্থিক লাভবান হওয়ার জন্য প্রতারণামূলকভাবে জাল দলিলের মাধ্যমে জোর করে দখলের চেষ্টা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডে কয়েকটি ধারায় প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *