অবশেষে বাঁকা পা সোজা সুখীমনের

সারাবাংলা

মেহেদি হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে:
সুখীমন বয়স (১০)। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়ার কৃষক রবিউলের মেয়ে। আড়াই বছর বয়সে একটি দুর্ঘটনায় পা ভেঙ্গে যায়। গ্রামের মানুষ তাই সরাসরি হাসপাতাল ক্লিনিকে না গিয়ে এলাকার কবিরাজের উপর বিশ্বাস করে চিকিৎসা করে অবশেষে পা বাঁকা হয়ে যায়। অবশেষে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ঘুরেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে তার বাঁকা পা নিয়ে চিকিৎসা করতে গিয়ে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন তার পায়ের হাড্ডিতে ক্ষয়জনিত রোগ থাকায় ইনফেকশন হয়ে পচে যাচ্ছে। হয় তাকে রাজশাহী থেকে ঢাকা নিয়ে যান অথবা হাটুর নিচ থেকে কেঁটে ফেলে দিতে হবে। ঢাকায় গিয়ে আর্থিক সংকটে চিকিৎসা করতে না পারায় নিরুপায় হয়ে আবারো সুখীমনকে নিয়ে তার বাবা রবিউল চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসাপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. ইসমাইল এর কাছে চিকিৎসা নিতে আসলে তাকে ডা. ইসমাইল আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। পরে তার কাছ থেকে তার সমস্যার কথা শুনে পরীক্ষা করে হাড়ের ক্ষয়জনিত সমস্যা মনে হলে তার বাঁকা পায়ের হাড্ডি কেটে ঢাকায় পাঠায় এবং নিজের অনুভব করা সমস্যা মিলে যাওয়ায় হাড় সোজা করে এলিজারোভ এর মাধ্যমে ৩ মাস ধরে চিকিৎসা করে এখন ১৩ এপ্রিল মঙ্গলবার তার পা পুরোপুরি সোজ হয়েছে। এখন সে সর্ম্পণভাবে দুইপায়ে ভর দিয়ে সমানভাবে হাটতে পারছে।
এ বিষয়ে ডা. ইসমাইল হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাঁকা হওয়া পা নিয়ে আমার কাছে চিকিৎসা নিতে আসলে আমি তাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে বলি। এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে অর্থপেডিক্্র বিভাগে সি-আর্ম মেশিন দিয়ে হিপ-জয়েন্ট ট্রকইন্টার ফ্র্যাকচার মেশিনের সাহায্যে বাঁকা পা সোজা হওয়া, আধুনিক চিকিৎসা এলিজারোভ সহ বিভিন্ন ধরনের জটিল চিকিৎসা করা হচ্ছে। ডা. ইসমাইল হোসেন আরো জানান, এর আগেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে জেলার ৩ জনের জটিল অপারেশন করা হয়েছে। তাই অর্থপেডিক্্র সংক্রান্ত যেকোন সমস্যার জন্য রাজশাহী বা ঢাকায় না গিয়ে আগে সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট এর সাথে যোগাযোগ করার কথা বলেন। সাধারণ মানুষ এখনও মনে করে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছেনা । কিন্তু আমরা জনসাধারণকে সবসময় সঠিক ও সুচিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করি। সুখীমনের বাবা রবিউল জানান, আমি সারাজীবন চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের অর্থপেডিক্স বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. ইসমাইলের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবো । আমাদের মত গরীব কৃষক এত ব্যযবহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব ছিল না। তিনি আমাদের এ চিকিৎসা করে দিয়েছে। আমি আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করবো।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *