অবাধে কারেন্ট জাল ব্যবহার নবাবগঞ্জ : সচেতনতার অভাব ॥ মৎস্য দফতরের অবহেলা

সারাবাংলা

শামীম হোসেন সামন, নবাবগঞ্জ থেকে
সরকার নিষিদ্ধ অবৈধ কারেন্টজালে সয়লাব ঢাকার নবাবগঞ্জের বিলগুলোতে। সরকারের নির্দেশনা না মেনে অবৈধভাবে কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে শিকার করা হচ্ছে বিলের দেশিয় মাছ। অন্যদিকে সরকার নিষিদ্ধ এসব কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্ধে উপজেলা মৎস্য দফতরের নেই কোনো ভূমিকা। কোনো ধরনের নেই অভিযান। চলতি বছর মৎস্য সপ্তাহে কারেন্ট জালের উপর কোনো ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। একেবারে ব্যর্থ বললেই চলে উপজেলা মৎস্য দফতরের ভূমিকা। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের মুখে সম্মুখীন হতে হচ্ছে মৎস্য দফতরকে।
জানা যায়, উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে কারেন্ট জাল বন্ধে চলতি মৌসুমে তেমন কোন ধরনের সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অভিযান না থাকায় স্থানীয় জেলেরা মাছ শিকারে সুযোগ পেয়েছে। এমনকি বিলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দেওয়া হয়েছে ভেশাল জাল এবং কারেন্ট জাল। এতে বর্ষার জলের সঙ্গে নদী, পদ্মা ও জলাশয়ের মাছগুলো বিলে যাতায়াত করতে পারছে না। বর্ষা শেষ হলে শীতের মৌসুমের শুরুতে নবাবগঞ্জের বিলগুলোতে দেশিয় মাছের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এসবের মূল কারণ উপজেলা মৎস্য দফতরের পুরো অবহেলা ও সচেতনতার অভাব বলে দায়ী করছেন স্থানীয় সচেতনমহল। অভিযোগ রয়েছে, চলতি মাসে মৎস্য সপ্তাহে বিভিন্ন মৎস্য খামারী ও চাষিদের মধ্যে যদিও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দেুশয় মাছ রক্ষায় মৎস্য দপ্তরের তেমন কোন ভূমিকা ছিল না। এতে, দেশিয় মাছ রক্ষায় যেমন কোন প্রদক্ষেপ নেওয়া হয়নি; তেমনি, সাধারণ মানুষের কোন উপকার হয়নি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নবাবগঞ্জের প্রতিটি বিলে এখন কারেন্ট জাল ও ভেশালে ভরপুর হয়ে গেছে। বিলগুলোতে জালের কারনে নামাই যায় না। এর মধ্যে উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর, বেড়িবাঁধ সুইচগেইট, কঠুরী, বারুয়াখালী, শিকারীপাড়া, নয়নশ্রী, বাংলাবাজার, বিলপল্লী, তুইতাল চক, দিঘীরপাড়, আগলা, টিকরপুর বিল, গালিমপুর, চৌকিঘাটা নদীর পাশে খাল এলাকা, কৈলাইলের শাইলকা, ভাংগাভিটা, দড়িকান্দা, বাহ্রা, চক বাহ্রা, যন্ত্রাইলের ভাওয়ালিয়া, হরিষকুল, কিরঞ্চি, নলগোড়া, বক্সনগর, বড় রাজপাড়া, ছোট বক্সনগরসহ বিভিন্ন এলাকার বিলগুলোতে এখন কারেন্ট জাল ও ভেসাল জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এলাকা ঘুরে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এসবের বিষয়ে কোন অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ মৎস্য কর্মকর্তা এসব বিষয়ে কোন ধরের ব্যবস্থা নেয়নি। দেখেও দেখছেন না এসব বিষয়গুলো। আগামীতে নবাবগঞ্জবাসীর দেশীয় মাছের চাহিদা মেটাতে অনেকটাই বিপাকে পড়তে হবে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয়াংকা সাহা বলেন, কারেন্ট জাল, চায়না জাল ও ভেসাল জাল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এখনো অভিযান করা হয়নি। তবে, দ্রুতই অভিযান শুরু হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *