অভাবে বানভাসি মানুষ

সারাবাংলা

আকাশ হোসেন, আশাশুনি থেকে:
সাতক্ষীরা আশাশুনির প্রতাপনগরে বানভাসি মানুষ খাদ্য, স্যানিটেশন ও বাস্তভিটা না থাকায় এলাকা ছাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধে ও নৌকায় বসবাস করছে অনেক পরিবার আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নটি এখন সাগর না সমতল ভূমি, তা বোঝার কোনো উপায় নেই। এরই মধ্যে উদবাস্ত হয়ে এলাকা ছাড়ছে অসংখ্য পরিবার। বুধবার সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে বিদায়ী জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করলেও কবে বাঁধ নির্মাণের কাজ হবে তার কোনো আশ^াস দিতে পারেননি। তবে খুব দ্রত যাতে বাঁধ নির্মাণকাজ হয় সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন বানভাসী এলাকার মানুষের। এমন সংবাদ প্লাবিত এলাকার মানুষের মধ্যে পৌঁছালে শত শত আশ্রয়হীন মানুষ অন্য কোনো উপায় না পেয়ে জেলা শহরের দিকে চলে যাচ্ছে। তবে বানভাসী কিছু মানুষ এখনো নিজ ভিটা ছেড়ে না গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের উপর ও নদীতে মাছ ধরা নৌকার উপর পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমানে ইউনিয়নটিতে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ভাগ্যে যেন অমাবস্যার কালো অন্ধকার নেমে এসেছে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষত না শুকাতেই গত ২৬ মে আবারও ইয়াসের প্রভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধের কয়েকটি পয়েন্টে ওভার ফ্ল হয়ে ও বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত এক সপ্তাহ পার হলেও বাঁধ বাঁধার তেমন কোনো উদ্যোগ নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এদিকে এলাকাবাসী বলছে স্থানীয় চেয়ারম্যান শেখ জাকির হোসেন সরকারিভাবে কিছু ত্রাণ বানভাসী মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিলেও সব মানুষের ভাগ্যে জোটেনি। অথচ বানভাসী মানুষের একত্র করে ত্রাণ দেওয়ার নাম করে কিছু শুকনো খাবার দিয়ে ছবি তুলে বেসরকারি সংস্থা ও কিছু স্থানীয় নেতা হাইলাইটস হওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবে অসহায় মানুষের দুঃখ কষ্ট কেউই বুঝতে চায় না। খাবার জল, রান্না করা খাবার ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থা একেবারে নেই বললে চলে। এমতাবস্থায় বানভাসী মানুষদের খাওয়া দাওয়া একবেলা হলেও অন্যবেলায় জুটছে না। আশাশুনি সদরে প্রতাপনগর বানভাসী এক বয়োবৃদ্ধার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমরা সপ্তাহ খানেক ধরে চিড়া মুড়ি খেয়ে নিঘুম রাত কাটিয়েছি। এমন করে আরও বহু মানুষ পড়ে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *