অসত্য তথ্য দিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিয়ে একটি মহল অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের এনটিএমসি (জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র) একটি বিভাগ রয়েছে, তারা সবসময় মনিটর করছে। কে করছে, কোথা থেকে আসছে- আমরা সেই জায়গাটিতে কাজ করছি। ডাক ও টেলি যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কাজ করছে। ফেসবুকসহ অন্যান্য যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আছে, তাদের সঙ্গে আমরা আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছি। আমরা যে অভিযোগ করছি তারা সেগুলোর তথ্য আমাদের দিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা গতকাল যে প্রেস রিলিজটি দিয়েছি সেখানে বলা হয়েছে, সামাজিক অস্থিরতা বাড়ানোর জন্য অনেক সময় অনেক তথ্য এসেছে, যার সত্যতায় ঘাটতি রয়েছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন মিথ্যা খবর প্রচারিত হচ্ছে। পাশাপাশি আদালতের রায় নিয়েও সমালোচনা হচ্ছে।
বিভিন্ন কায়দায় একটা অস্থিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য এই সমস্ত মিথ্যা অসত্য প্রচার করা হচ্ছে। জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য ও আমাদের নিয়মিত বাহিনীগুলোর মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য অসত্য তথ্য দিয়ে অন্য ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে এই কাজ করা হচ্ছে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।
সিলেটের বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পিবিআই সুন্দর তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করবে বলে প্রতিশ্রতি দেন আসাদুজ্জামান খান কামাল।
সিলেট ও নবাবগঞ্জে পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে তাদের হত্যা করা হয়েছে। সিলেটে পুলিশ ফাঁড়ির ঘটনার পর উপপরিদর্শক (এসআই) পলাতক রয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটের ঘটনাটি তদন্তের মধ্যে রয়েছে, সেখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। কোতোয়ালি থানার কাস্টগড় এলাকা থেকে রায়হানকে ধরে আনা হয়েছিল। তিনি ৬টার দিকে হঠাৎ করে অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল তাকে মৃত ঘোষণা করে। হাসপাতালে তার ময়না তদন্ত হচ্ছে কিংবা হবে। সে অনুযায়ী এবং নিহত যুবকের স্ত্রী যে মামলা করেছেন তার সবগুলি আমলে নিয়ে এটার সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তদন্ত অনুযায়ী যে দায়ী তাকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।
আসাদুজ্জামান খান কামাল আরও বলেন, পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে পিবিআই একটা সুন্দর তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে পারে। আর নবাবগঞ্জের ঘটনাটা হলো হাজতখানায় একজন আসামি বাথরুমে গিয়ে নিজের লুঙ্গি দিয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। এটাও আমরা ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তের মাধ্যমে দেখব। হাজতখানার ভেতরে কীভাবে তিনি মারা গেলেন, সেটাও আমাদের দেখার বিষয়। কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন, তাকে কেউ প্ররোচনা দিয়েছিল কিনা, সব বিষয়ই আমরা দেখব।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *