অসহায় কৃষকদের পথে বসালো বিল বাঁধ কমিটি

সারাবাংলা

আব্দুল বাশির, গোমস্তাপুর থেকে
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে কৃষকদের ধান জলে প্লাবিত করিয়ে পথে বসালো বাঁধ কমিটি। উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চড়ুইল বিলের ২৭১ একর জমির ধান বাঁধ কমিটি ও বিল ইজারাদারদের যোগসাজশে সুইচগেট খুলে বিলের মধ্যে জল ঢুকিয়ে জমির ধান নষ্ট করেছে।
সাবেক সেনা সদস্য আফজাল হোসেন বলেন, বিল ও বাঁধ কমিটি এক হয়ে রাতের আঁধারে সুইচ গেটের ৪ টি দরজা খুলে দিয়ে আমার ০৯ বিঘা জমির ধান পানিতে প্লাবিত করেছে।পাকা ধান আর কয়েক দিন পর কাটতে পারতাম। কিন্তু তাদের কারণে সব পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের নিজের জমির মাটিতে কেউ মাছ ধরলে,তারা ধরতে দিচ্ছে না।আর ধরলে সালিশ বসিয়ে অপমানকর আচারণ করছে।এমন কি, আমার এক আত্মীয় মাছ ধরতে গেলে তাকে কান ধরিয়ে উটবস করিয়ে ছাড়ে।আমরা এমন কাজের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বিচারের দাবি করছি।
অপর কৃষক তোফিজুল ইসলাম বলেন,বন্যার পানিতে আমাদের ধান প্লাবিত হয়নি।আর বন্যা হওয়ার মত এখনো তেমন পানি হয় নি। কৃষকদের জন্য সরকার ৮০ লক্ষ টাকা খরচ করে বন্যা রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করেছে। কিন্তু বাঁধ কমিটি তা না করে সুইচ গেট খুলে দিয়ে আমাদের জমির সব ধান পানিতে প্লাবিত করে দিয়েছে।তাই আমরা বিল ও বাঁধ কমিটির কাছে এর ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি এবং শাস্তি দাবি করছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রাসেদা খাতুন বলেন, আলীনগর ইউনিয়নের ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের চড়ুইল বিলে প্রতিবছর বাঁধ কমিটি মাছ চাষের জন্য সুইচগেট খুলে দিয়ে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান নষ্ট করে দিচ্ছে। কিন্তু এটা আর হতে দেয়া যাবে না। অসহায় কৃষকদের কান্না আমাদের ব্যথিত করছে।তাই এর একটি সমাধান হওয়ার দরকার বলে আমি মনে করি।
বিল ইজারাদার একাংশের মালিক আবীর আলী জানান, ওই বিলের সুইচগেট এর ভার্টিক্যাল গেট খোলার বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। আর বিলে এতগুলো পানি হয়েছে আলীনগর গ্রামের বর্ষার পানিতে। অপরদিকে চড়ুইল বিল বাঁধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নূর নবী জানান, সুইচগেট দেখার জন্য আমাদের পাহারাদার রয়েছে।আর ভার্টিক্যাল গেট খোলা হয়নি। কৃষকরা যদি এ ধরনের অভিযোগ করে থাকে তবে তারা মিথ্যা বলেছে।আলীনগর ইউনিয়ন ও ভারতের ভিতরের আষাঢ় মাসের বৃষ্টির পানিতে এমনটি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *