অস্থির চালের বাজার সবজিতে স্বস্তি রংপুর : নিরুপায় নিম্নআয়ের মানুষ

সারাবাংলা

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রংপুর ব্যুরো :
রংপুরে বাজারে ধানের মূল্য তেমন না বাড়লেও চালের মূল্য তরতর করে বাড়ছে। এতে করে সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে রংপুরের বাজারে চাল ও ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম ভোগাচ্ছে ভোক্তাদের। একমাস ধরে প্রতি সপ্তাহে ভোজ্যতেল ও চালের দাম বেড়েই চলছে। প্রতি কেজিতে প্রায় সবধরনের চালের দাম বেড়েছে ৫-৭ টাকা। গতকাল সোমবার রংপুরের মাহিগঞ্জ বাজার, সিটি বাজার, কামালকাছনা বাজার ও টার্মিনাল বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।
মাহিগঞ্জ ও সিটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে নতুন চাল স্বর্ণা প্রতি বস্তা (৫০কেজি) বিক্রি হচ্ছে ২২৫০-২৩০০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৮-৫০ টাকা কেজি দরে। আঠাশ প্রতি বস্তা বিক্রি হচ্ছে ২৬০০-২৬৫০ টাকায়। আর খুচরা বাজারে বেচা হচ্ছে ৫৪-৫৫ টাকা কেজি দরে। এছাড়াও মিনিকেট, নাজিরশাইলসহ সবধরনের চালের দাম কেজিতে বেড়েছে -৫-৭ টাকা পর্যন্ত।
রংপুর সিটি বাজারের চাল ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় একমাস থেকে প্রতি বস্তায় ১৫০-২০০ টাকা দাম বেড়েছে মোকামগুলোতে। মোকামে দাম বাড়ায় তারা বাড়তি দামে বিক্রি করছেন। শীত মৌসুমের আগে চালের দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানান তিনি।
অপরদিকে, চালের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও। একমাস ধরে প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকা বাড়তি দামে বেচা হচ্ছে সবধরনের ভোজ্যতেল। খোলা সয়াবিন প্রতি কেজি বেচা হচ্ছে ১১৫-১১৮ টাকা, যা গত মাসেও বেচা হয়েছে ১০২-১০৫ টাকা কেজি দরে। বোতলজাত তেলেও দাম প্রতি লিটারে বৃদ্ধি পেয়েছে ৮-১০ টাকা। রংপুর বাসটার্মিনালের আব্দুল হালিম জানান, পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। এতে করে সবধরনের ভোজ্য তেলের দাম প্রতি লিটারে বেড়েছে ৮-১০ টাকা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে আসা নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০-৫০ টাকায়। গত সপ্তাহে বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৪২-৪৫ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০-৬৫ টাকায়। এছাড়াও বাঁধা কপি, ফুল কপি, বেগুন, পেঁপে, সিমসহ সব ধরনের সবজির দাম কেজি প্রতি ১০- ১২ টাকা কমেছে।
এদিকে, রংপুর সিটি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত নতুন পেঁয়াজ আসছে। এ পেঁয়াজের মান বেশ ভালো। সরবরাহ বাড়ায় দামও কমেছে। সামনে পেঁয়াজের দাম আরো কমবে। আলু ও পেঁয়াজের দাম কমার সঙ্গে কমেছে ডিমের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে ডজনে ১০ টাকা কমেছে। গত সপ্তাহে ৯৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিম এখন ৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর খুচরা বাজারে প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩২ টাকা। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রতিদিন বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। কোন ব্যবসায়ী যাতে চাল মজুদ ও কারসাজি করে দাম বৃদ্ধি করতে না পারে সে বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *