আঁধারে সরকারি গাছ চুরি

সারাবাংলা

রাজিবুল হক সিদ্দিকী, কিশোরগঞ্জ থেকে :
গাছ দেশের সম্পদ। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে সরকার জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ গাছ রোপন করে যাচ্ছে। আর সেখানে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন শিহাব প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের সরকারি ৪টি গাছ রাতের আঁধারে লোকবল দ্বারা চুরি করে কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বন বিভাগ গত রোববার চুরিকৃত ২টি গাছ উদ্ধার করে তাদের দফতরে নিয়ে আসে। এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় অজ্ঞাত আসামী দিয়ে ১টি মামলা করেছে বন বিভাগ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রশিদাবাদ ইউনিয়নের সগড়া ও কাকতৈল গ্রামে ৪টি গাছ কর্তনের পর গাছের শিকড় মাটি চাপা দিয়ে লুকিয়ে রেখেছে। পরে এলাকাবাসী জানায় সগড়া বাজারের কুদ্দুছের কাঠ খলায় চুরি করা ৪টি গাছ নিয়ে যায় চোরেরা। এলাকাবাসীর মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা যায়। এলাকাবাসী জানায় এর আগেও রশিদাবাদ ইউনিয়নে সরকারি গাছ চুরি করে কর্তন করেছে কতিপয় নামধারী লোক। বিএনপি নেতা শিহাব চেয়ারম্যান রাতের আঁধারে তার নিজস্ব বাহিনী দ্বারা এ গাছ চুরি করিয়েছে। রশিদাবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন শিহাব এর সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, বিষয়টি আংশিক সত্য। আমার জায়গার পার্শ্বে গাছটি ছিল যা আমার শ্রমিকরা কেটে ফেলে। সরকারি গাছ কর্তন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ জানেন কি না জিজ্ঞাসা করিলে উনি সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অসদাচরণ করেন।
৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আব্দুর রাশিদ বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তা সবার সামনে থেকে কর্তন করা গাছগুলি বুঝে নিয়েছে তখন অভিযুক্ত শিহাব চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। সাবেক চেয়ারম্যান শিহাব বন বিভাগের কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, আপনার আসার কি দরকার ছিল। আমি গাছগুলো পৌঁছে দিতাম। বন বিভাগের কর্মকর্তা উপস্থিত সকলের সামনে বলে গিয়েছিলেন যে, এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের সকলকে আসামী করে মামলা করবেন। কিন্তু পরে শুনি তিনি অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক জড়িতদের শাস্তি চাই। এলাকাবাসী জুবেদা খাতুন বলেন, সরকারি ভাবে গাছ পেয়ে সরকারি জায়গায় রোপন করেছিলাম। এতদিন লালন পালন করে আমি বড় করেছি। আর শিহাব চেয়ারম্যান এখন কেটে নিয়ে গেছে। রশিদাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. ইদ্রিছ মিয়ার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার পরিষদের সদস্য আমাকে ফোন দিয়ে জানায় সরকারি গাছ কর্তন করে নিয়ে যাচ্ছে। পরে আমি তাকে বলি যদি সরকারি গাছ কর্তন করে তবে আমাকে ফোন দেয়ার জন্য আমি গিয়ে আটক করব।
কিশোরগঞ্জ সামাজিক বন সম্প্রসারণ ও নার্সারি প্রশিক্ষণ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হারুনুর রশিদ বলেন, আজ আমি পুণরায় ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে পুণরায় উপস্থিত জনতার স্পষ্ট বক্তব্য পেয়েছি। সবাই এ ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান শিহাবকে ইঙ্গিত করেছে। আমি অভিযুক্তদের নাম তদন্তের স্বার্থে পুলিশকে অবহিত করব। সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ফজলে করিম মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান বলেন, কিছু গাছ খেকো পরিবেশ নষ্ট করার জন্য এ গাছগুলো কাটছে। গাছ পরিবেশের সম্পদ, দেশের সম্পদ। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের যথাযথ শাস্তির দাবী জানাচ্ছি। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, এ বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *