আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষক গোপালগঞ্জ : পাটের বাজার মূল্য ভালো

সারাবাংলা

শামীম আহমেদ, গোপালগঞ্জ থেকে
গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলার পাট চাষিরা এখন পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন তারা। বাজারে ভাল দাম আর চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এই এলাকায় দিন দিন বাড়ছে পাটের চাষাবাদ। এদিকে পাট ধোয়া ও শুকানোর কাজ পুরুদমে শুরু হয়েছে জেলার সর্বত্র। সোনালী আাঁশের সোনালী রঙে ভরে গেছে কৃষকের ঘর। মৌসুমের শুরুতে পাট বিক্রি করে ভাল দাম পাচ্ছেন এ জেলার কৃষকেরা। ফলনও হয়েছে ভালো। জেলার হাট বাজার গুলোতে প্রতি মন পাট তিন হাজার টাকা থেকে তেত্রিশ শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাইকাররা বাড়ি বাড়ি গিয়েও পাট কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছে। তাই ভালো ফলন ও আশানুরুপ দাম পেয়ে বিগত বছর গুলোতে লোকশানে পড়া কৃষকদের মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটে উঠেছে। বর্তমানে দেশে পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পাট ও পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বাড়াতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়ার ফলে আবারো সুদিন ফিরেছে কৃষকদের ঘরে। কৃষি বিভাগের তদারকিতে গোপালগঞ্জের প্রত্যেকটি উপজেলায় চলতি বছর বিশেষ প্রনোদনা দিয়ে কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটে বাম্পার ফলন হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, এ বছর গোপালগঞ্জে মোট ২৬,১০৪ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ৫,১১৪ হেক্টর , কাশিয়ানীতে ৮,২৫০ হেক্টর, মুকসুদপুরে ১০,৪৬৯ হেক্টর, কোটালীপাড়ায় ৯৭৬ হেক্টর এবং টুঙ্গিপাড়ায় ১০,২৯৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫৪, ৮১৯ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আবাদ ব্যাক্ত করেন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ বলেন, এ জেলায় গত মৌসুমে ১৮০০ হেক্টর জমিতে পাট আবাদ হয়েছিল। বর্তমানে তা বেড়ে মোট ২৬,১০৪ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। সদর উপজেলার কৃষক ঠান্ডা মোল্লা পাটের বেশি দাম পেয়ে খুব খুশি। তিনি বলেন, “এবার চার বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। ফলন পেয়েছি বিঘাপ্রতি বারো মন । টাকার দরকার থাকায় শুরুতে ২৮০০ টাকায় বিক্রি করেছি প্রতি মন। এর আগে কখনো এত দামে পাট বিক্রি করিনি। তার মতো দলিল খা, মোসা মিয়া, জব্বার ফরাজি নামের কয়েকজন চাষী জানান পাটের এ দাম ঠিক থাকলে আগামীতে পাটের চাষাবাদ আরো বাড়বে। বাজার থেকে মধ্যসত্বভোগির দৌরত্ব কমালে তারা আরো লাভবান হতেন। এছাড়া পাটের বহুমূখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পাটের সুদিন ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন এ জেলার পাট চাষীরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *