আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত চাষি

সারাবাংলা

গোলাম মোস্তফা, নান্দাইল থেকে
ময়মনসিংহের নান্দাইলে পাটের আঁশ ছাড়ানো, পাট ধোয়া ও শুকানোর কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন চাষিরা। সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন তারা। সোনালী আঁশের সোনালী রঙ্গে ভরে গেছে কৃষকের ঘর। এলাকার কৃষক-কৃষানি রাস্তাঘাট, মাঠ, ক্ষেতের আল, ডোবায়, নদীর তীরে ও বাড়ির আঙ্গিনায় পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। চলতি মৌসুমে নান্দাইলে বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ব্যাপক ভাবে সোনালী আঁশের আবাদ হয়েছে । দেশে সার বীজ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ কম ও অনুকূলে আবহাওয়া থাকায় সোনালী আঁশের ফলন অধিক হচ্ছে। দেশের হাট-বাজারে পাটের দাম বেশি পাওয়ার সোনালী আঁশের সুদিন ফিরে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় পাট চাষীরা এবং আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় , উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিভিন্ন গ্রাম ও চরাঞ্চলের সমতল জমিতে এ বছর পাটের আবাদ লক্ষামাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে ১১৯৫ হেক্টর জমিতে । তন্মধ্যে দেশীয় , তোষা , মেশতা ও অন্যান্য জাতের পাট রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে পাট বিক্রি করে ভাল দাম পাচ্ছেন কৃষকেরা । ফলনও হয়েছে ভালো । উপজেলার হাট বাজার গুলোতে প্রতি মন পাট ৩০০০ টাকা থেকে ৩২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাইকাররা বাড়ি বাড়ি গিয়েও পাট কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছে। তাই ভালো ফলন ও আশানুরুপ দাম পেয়ে বিগত বছর গুলোতে লোকসানে পড়া কৃষকদের মুখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটে উঠেছে । উপজেলার বীর কামাট খালী , লোহিতপুর, চরকামাট খালী , চরকোমরভাঙ্গা, হাটশিরা , কালিবাড়ির চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুওে দেখা যায় , রাস্তার দুই পাশে পাটির আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত কৃষক। তবে এ কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ও পাটের আশ ছাড়াতে দেখা যায়। হাটশিরা চরাঞ্চলে পাটের আশ ছাড়ানোয় ব্যস্ত খাদিজা, রহিমা , রোখেয়া বলেন আমরা এখানে কাজ করছি পাটখড়ির জন্য। পাটের আঁশ ছাড়ালে পাটখড়ি আমি পাব। দিনে ৫০ থেকে ৬০ আটি পাটের আঁশ ছাড়াতে পারি । এতে মালিকের লাভ , আমরাও লাভ । পাট চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় , প্রতি বিঘা জমিতে চাষ , সেচ, রাসাযনিক সার প্রয়োগ, পাট কাটা , শুকানোসহ খরচ হবে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা । গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ও দাম বেশি হওয়ায় অন্য ফসলের তুলনায় লাভ হবে ৫/৬ গুন। গত বছর বিঘাপ্রতি ৭/৮ মন পাট পাওয়া গেছে । কিন্তু এবার ফলন ভালো হওয়ায় বিঘাপ্রতি ১০/১২ মন পাট পাওয়া যাবে। পাট চাষী জুম্মর ব্যাপারী , শহিদ উল্লাহ, কাশেম , রুহুল, কামরুলসহ আরও অনেকেই জানান, ৩ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছি প্রতি মন পাট । এর আগে কখনো এত দামে পাট বিক্রি করিনি । এইবার বাম্পার ফলন হইছে । পাটের এদাম ঠিক থাকলে আগামীতে পাটের চাষ আরও বাড়াব । নান্দাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান বলেন , আমরা কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ , প্রশিক্ষন ও মাঠ পর্যায়ে দেখাশোনা করায় ফলন ভালো হয়েছে। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রণোদনাও ভর্তুকী কৃষকদের মধ্যে পৌছৈ দেওয়ায় তারা আরও বেশী উদভুদ্ধ হয়েছে । বর্তমানে বাজারে পাটের চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধির কারনে পাট চাষ দিন দিন বাড়ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *