আইএসে ভিড়ছেন আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্যরা

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আফগানিস্তানের সাবেক সরকারের পতন হয়েছে চলতি বছরের ১৫ আগস্ট। এরপর থেকে সাবেক সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএস-কে (দায়েশ)-এর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন।

খবরে বলা হয়, ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতা থেকে সাবেক আফগান সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্য আইএসআইএস-কেতে ভিড়েছেন।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রশিক্ষণ পাওয়া আফগানিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিটের কিছু সাবেক সদস্য আইএসের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাদের পৃষ্ঠপোষক যুক্তরাষ্ট্র তাদের নেয়নি, অপরদিকে তারা তালেবানের হিটলিস্টে রয়েছেন।  এমন পরিস্থিতিতে দেশটির বর্তমান সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানো ফোর্স আইএসের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তারা।

এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ইসলামিক আমিরাত সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। তাই নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্য বা কারও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে থাকার প্রয়োজন নেই।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খোস্তি বলেন, ইসলামিক আমিরাত সবার জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। সুতরাং নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্য বা কারও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে থাকার প্রয়োজন নেই। কেননা, ইসলামিক আমিরাতের কেউই তাদের কিছু করবে না।

সম্প্রতি ২০ ও ২১ অক্টোবর মস্কোয় আয়োজিত সম্মেলনে দায়েশ বা সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে আফগানিস্তানের সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

সাবেক কূটনীতিক আজিজ মারিজ বলেন, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দায়েশ ততটা সক্রিয় নয়, যতটা বলা হচ্ছে।

অনেক বিশ্লেষক বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট ও বেকারত্ব নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্যদের দায়েশের সঙ্গে যোগ দিতে বাধ্য করছে।

সামরিক বিশ্লেষক আসাদুল্লাহ নাদিম বলেন, ইরাকের মতো পরিস্থিতি হবে আফগানিস্তানে। সেখানে সাবেক সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর বড় অংশ দায়েশের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল। আফগানিস্তানেও এমনটি হতে যাচ্ছে।

এদিকে ইসলামিক আমিরাত দায়েশকে তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছে না। একে তারা সামান্য সমস্যা হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলছে, আমেরিকা আফগানিস্তানে দায়েশের কর্মকাণ্ড নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার মধ্যেই আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এরপর গঠন করে সরকার। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটেছে। যেসব হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *