আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সংস্কার কাজে ঠিকাদারের গাফিলতি

সারাবাংলা

সকেল হোসেন, আক্কেলপুর থেকে :
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংস্কার কাজ বন্ধ থাকায় শীতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভর্তি রোগী, ডাক্তার, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ সমাপ্ত করার কোন খবর নেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের। ঠিকাদারের উদাসীনতায় চরম ভাবে বিপাকে পড়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৫০ শয্যা আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রতিদিন এই উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে প্রায় ৪ শতাধিক রোগী চিকিৎসার জন্য আসেন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বহিঃবিভাগে। এদের মধ্যে অসংখ্য রোগীকে ভর্তি হতে হয়। অনেক সময় আসন সংখ্যা ৫০ ছাড়িয়ে গেলে বারান্দার মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হয় রোগীদের।
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সারা দেশ যখন আতংকিত, সে সময় পাবনা গোপালপুরের মেসার্স পাবনা সওদাগর এন্ড কোম্পানী এক কোটি সাত লক্ষ টাকা ব্যায়ে আক্কেলপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বারান্দাসহ ভর্তি রোগীদের ৪টি ওয়ার্ডের সব স্থানে ষ্টাইলস্, জানালা দরজা পূর্ণ স্থাপনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে কাজ শুরু করেন। কাজের শুরুতে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রোগীদের ওয়ার্ডসহ সব অফিসের পূর্বের দরজা ব্যতিত সব জানালা খুলে ফেলেন। খোলা স্থানে লোহার ফ্রেম বসালেও সেখানে আজ পর্যন্ত জানালার পাল্লা বা গ্লাস না বসিয়ে গত কোরবানি ঈদের সময় শ্রমিকরা ঈদ উৎসব পালন করতে বাড়িতে যান। কয়েক মাস পার হলেও আজও ঈদের আমেজ ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শেষ না হওয়াই শীতে ভর্তি রোগীদের অনেকে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। স্বল্প রোগীদের সঙ্গে অসহায়ের মতো হাসপাতালের নার্স, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ওয়ার্ডবয় বিপাকে পড়ে বাধ্য হচ্ছেন ঠান্ডার মধ্যে রোগীদের সেবা দিতে। ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের উদাসিনতায় এ উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অসহায় রোগীরা তাদের অবশিষ্ট কাপড় দিয়ে খোলা জানালা ঠেকে দিয়ে ঠাণ্ডা নিবারণের ব্যর্থ চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাধেশ্যাম আগরওয়ালা জানান, গত কোনবানী ঈদের সময় ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিয়োজিত সব শ্রমিক বাড়িতে যান। আজ পর্যন্ত তাদের বা ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কেহ কাজ বিষয়ে খোজ খবর করতে আসেনি পর্যন্ত। এখন রাতে প্রচন্ড শীতে হাসপাতালের ২য় তলার ৪টি ওয়ার্ডে কোন রোগী থাকতে পারছেন না। রোগীরা যে রোগে ভর্তি হচ্ছেন তার সঙ্গে অন্যান্য রোগ যোগ হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে লিখিত অভিযোগ করেও তাদের পক্ষ থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টির সমাধান করতে জেলা সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *