আজও কেঁদে বেড়াচ্ছেন আমেনা বিবি

সারাবাংলা

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ থেকে :
দুঃসহ স্মৃতি বিজড়িত ভয়াল ১৫ নভেম্বর ২০০৭ সালের এই দিনে রাত সাড়ে ৯টায় সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হানে উপকূলীয় এলাকা মোরেলগঞ্জ-শরণখোলার ৬৩৮ বর্গ কিলোমিটারের এ জনপদ। সরকারি হিসেব অনুযায়ী সিডরে মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ৯৩ জন লোকের প্রানহানি ঘটে।
লণ্ডভণ্ড করে দেয় সুন্দরবনসহ বিশাল আয়তনের প্রকৃতি ও মানবাতাকে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় উপকূলীয় অঞ্চলের এ উপজেলার মানুষের হৃদয়ে জড়িয়ে আছে এই দিনটি। ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও আজও কেঁদে বেড়াচ্ছেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার উত্তর বারইখালী গ্রামের আমেনা বিবি (৭০)।
রোববার সরেজমিনে পানগুছি নদীর তীরবর্তী বারইখালী ইউনিয়নের উত্তর বারইখালী গ্রামের মৃত. জব্বার শেখের স্ত্রী ভূমিহীন আমেনা বিবি। চাল নেই চুলা নেই মাখাগোজার কোন মতে খুপড়ি বেঁধে নদীর পারে তার বসবাস। সিডরের পরপরই বড় ছেলে দুলাল শেখকে হারাতে হয়েছে। ছোট ছেলে দিনমজুরের কাজ করে অন্যত্র বসবাস। খোঁজ রাখে না বৃদ্ধ মায়ের।
সাগরে মাছ ধরাই ছিল দুই ছেলের পেশা। বয়সের ভারে অসুস্থ শরীর নিয়ে পেটের তাগিদে কোনমতে দিন চলে আমেনা বিবির। দুপুরের খাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ছৈলা গাছের ৫টি পাকা ফল ও আটা গোলা। দুই নয়ন থেকে অশ্রু ঝরছে। কি দেখছেন বাবা?
এর আগে তো অনেকেই এসেছেন লিখে নিয়েছেন অনেক কথা। ইঞ্জিনিয়ার বলছে আপনার ঘর হবে। কিন্তু কবে হবে? এ রকম অনেক প্রশ্ন তুলেন সংবাদকর্মীদের কাছে তিনি। বয়স্ক ভাতা ৬ মাস পরপর ৩ হাজার টাকায় কি হয়। এদিকে গোটা গ্রামে নদীর তীরবর্তী শত শত বাড়ি ঘর ফসলী জমি পানগুছি নদীর করাল গ্রাসে বিলীন হয়ে গেছে। ভূমিহীনভাবে বসবাস করছে ১৫-২০টি পরিবার।
কথা হয় ভূমিহীন রহিমা বেগম, হনুফা বেগম, ফারুক শেখ, আনোয়ার শেখসহ একাধিক পরিবারের সঙ্গে তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো রয়েছেই। তারপরও অতিরিক্ত জোয়ারের জলে প্রতিনিয়ত দু’বার প্লাবিত হয় বাড়িঘর। ছেলে-মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে তাদের। টেকশই বেড়িবাঁধ ও স্থায়ী ভাবে মাথাগোজার ঠাঁই দাবি করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার-এর কাছে।
এ সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ উপজেলায় ১৬৭ জন ভূমিহীন পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানদের সমন্বয়ে সভার করার পরবর্তীতে প্রতিটি ইউনিয়নে সরকারি খাস জমি ভূমিহীনদের মাজে বন্টন করা হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *