আত্মহত্যার নামে অবহেলার মোড়কে হত্যা বন্ধ হোক

মতামত

Evana Laila Choudhury ফেসবুকে যখন খুঁজতে গেলাম, দেখি তার নাম Popular Now। কারণ তিনি মৃত, জাগতিক জীবনের দায়মুক্তি হয়েছে। এই দায়মুক্তি তার ইচ্ছাকৃত মানে সে আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা নিয়ে আমাদের ভিন্ন মতবাদ আছে। যেকোনো ধর্মেই যা মহাপাপ, আর সামাজিকতায় তা দুর্বল মানসিকতার পরিচয়।এসকল মতামত নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই। কিন্তু কেনো মানুষ জীবন থেকে দায়মুক্তি চায় এটি নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন আছে। কিছুদিন আগে বেশকিছু কথা বলেছিলাম। আজ আবারো সেই কথাগুলোই লিখছি।

 দুটি ফুটফুটে সন্তানকে ভয়ানক পৃথিবীতে একা ফেলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে একটা মায়ের কতখানি অসহায়ত্ব ছিলো একমাত্র সেই জানে, কেউ কি তার অসহায়ত্ব জেনেছি? অথচ আমরা বলবো সে যুদ্ধজয়ী নয়। কিন্তু কেনো বলবো? এর উত্তর আমার কাছে নেই। 

প্রতিদিন অন্তত একটি ইচ্ছে আত্মহত্যা করে পূরণ না হওয়ায়। হাজারো অভিমান আত্মহত্যা করে ; মান ভাঙানো ভালোবাসার অভাবে। ভাবনাগুলো আত্মহত্যা করে সামাজিক নিয়মের ফাঁদে পড়ে। আকাশ ছোঁয়া স্বপ্নের আত্মহত্যা প্রতিদিনের চোখ রাঙানো বাস্তবতায়। সাজানো মন আত্মহত্যা করে একজন ভুল সঙ্গীর সংস্পর্শে। প্রতি মুহূর্তের আত্মহত্যার কোনো খবর কি আমরা রাখি। অথচ এতগুলো আত্মহত্যার ভার সইতে না পেরে শরীরের আত্মহত্যায় চলে নানা রকম বিশ্লেষণ। কেউ কষ্ট পেলে, তাকে বলি, কষ্ট কেনো পেতে হবে? যা হবার তাতো হবেই, তাকে মেনেই নিতে হবে। মেনে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। কিন্তু আমার প্রশ্ন মেনে নেয়া আর মনে নেয়া কি এক? মনেই যদি না নেয়া গেলো তবে অভিমানী কষ্টের চিৎকার কি থেমে থাকে? হয়তো সেই চিৎকার আমরা শুনতে চাইনা বলে তার আওয়াজ আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারে না। নীরব চিৎকারে জমে থাকা ক্ষত কতটা যন্ত্রণার সেই হিসাব আমরা করিনা। আর তাই ভার বইতে না পেরে, একা যুদ্ধ করে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

কতটা নিঃসঙ্গ আর হতাশাগ্রস্ত হলে এমন সিদ্ধান্ত আসে, তা হয়তো লিখে বোঝানো সম্ভব না। কিন্তু চাইলেই আমরা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি।পাশের মানুষটিকে যত্ন করা, তার না বলা কথাগুলো শুনতে চাওয়া কিংবা তাকে কষ্ট না দেয়া। খুব কি আনন্দ হয় নিজের খনিক ভালো লাগায় অন্যের মনে স্হায়ী দাগ কাটতে? কেনো লিখলাম আবার একই কথা? ইভানাকে নিয়ে অনেকগুলো পোস্টে তার মৃত্যু না মেনে নেয়ার ক্ষোভ দেখেছি। আবার সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত অপার সৌন্দর্যের পাশাপাশি মনের সৌন্দর্যের নিষ্পাপ বর্ণনাও আমাকে মুগ্ধ করেছে। কিন্তু আমি কষ্ট পেয়েছি,তাই আবারো লিখলাম। একটা অদৃশ্য দায়ভার আমাকে মনে করিয়ে দিলো ব্যর্থতা। দুটি ফুটফুটে সন্তানকে ভয়ানক পৃথিবীতে একা ফেলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে একটা মায়ের কতখানি অসহায়ত্ব ছিলো একমাত্র সেই জানে, কেউ কি তার অসহায়ত্ব জেনেছি? অথচ আমরা বলবো সে যুদ্ধজয়ী নয়। কিন্তু কেনো বলবো? এর উত্তর আমার কাছে নেই।

এতগুলো প্রশ্ন মাথায় নিয়ে উত্তর খোঁজা আমি কিছু বলতে চাই। জীবনটা যেমন মূল্যবান, স্বপ্নময়। ঠিক তেমনি একবুক কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকা দুর্বিষহ, অর্থহীন। সম্পর্কের মূল্যায়ন জীবনটাকে সহজ করতে পারে। অতিলোভী মানসিকতা যেমন সম্পর্ক নষ্টের কারণ আবার দায়বদ্ধতায় একমুখী ভালোবাসা ভারমুক্ত জীবন। যেখানে শুধু আনন্দ,বাঁধা পেরিয়ে গুটি গুটি পায়ে স্বপ্ন বোনা আর সেই স্বপ্নে বসবাস। আসুন অন্যের জীবনের মূল্য দেই সুন্দর পৃথিবীর আয়োজনে। যেখানে ভাবলেশহীন ভাবনাগুলো গুরুত্ব পাবে ভালোবাসার তাগিদে। আত্মহত্যার নামে অবহেলার মোড়কে হত্যা বন্ধ হোক।

লেখক: তানজিনা পৃথা

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *