আদালতে বোমা হামলা: বোমা মিজানের মৃত্যুদণ্ড, জাবেদের যাবজ্জীবন

আইন আদালত লিড ১

ডেস্ক রিপোর্ট: ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম আদালতে পুলিশ চেকপোস্টে বোমা হামলার মামলায় পলাতক আসামি বোমা মিজানের মৃত্যুদণ্ড ও  জাবেদ ইকবালের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার এ রায় ঘোষণা করেন চট্টগ্রাম সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হালিমের আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ২১ সেপ্টেম্বর রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ১০ মাস পর নিষ্পত্তি হলো চাঞ্চল্যকর এই মামলা। সাক্ষীদের হাজির করতে না পারায় এত সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর ওই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। তখন ঘটনাস্থলে মারা যান পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া ও ফুটবলার শাহাবুদ্দীন। আহত হন পুলিশ কনস্টেবল আবু রায়হান, সামসুল কবির, রফিকুল ইসলাম, আবদুল মজিদসহ ১০ জন।

১৬ বছর পর বোমা হামলা মামলার এ রায়কে ঘিরে আজ সকাল থেকে আদালত চত্বরে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালী থানার মামলা নং- ৩৮(১১)২০০৫। বোমা হামলার পরের বছর ২০০৬ সালের ১৮ মে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তৎকালীন পরিদর্শক হ্লা চিং প্রু জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমান্ডার জাবেদ ইকবাল ওরফে মোহাম্মদ ও বোমা তৈরির কারিগর জাহিদুল ইসলাম ওরফে বোমারু মিজানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়।

এর মধ্যে অন্য একটি মামলায় বাকি তিনজন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড ছিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই এবং জেএমবির সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি নামের তিন আসামির ফাঁসির আদেশ হয়। ফলে এ মামলা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছিল।

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ২০০৬ সালের ১৬ জুলাই মামলাটির অভিযোগ গঠন করে। পরে মামলার বিচার চলছিল প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। ২০০৮ সালে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। সাক্ষীরা হাজির না হওয়ায় ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে মামলাটি নিষ্পত্তি করা যায়নি। পরে মামলাটি প্রথম অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে ফেরত যায়। পরে পুনরায় ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মামলাটি চট্টগ্রাম বিভাগীয় ট্রাইব্যুনালে পাঠান চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ।

২০১৮ সালে চট্টগ্রাম সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের গঠন করা হলে চট্টগ্রামের জঙ্গিদের সব মামলা এই ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। একই বছর ৬ আগস্ট মামলাটি সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালে রিসিভ করেন। চট্টগ্রাম সন্ত্রাস দমন ট্রাইব্যুনালের মামলা নম্বর ৬৭/২০১৮। মামলার একমাত্র আটক আসামি জঙ্গি জাবেদ ইকবাল কারাগারে আটক আছেন। বোমা মিজানকে ২০১৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে হাজিরা দেওয়ার জন্য ময়মনসিংহের আদালতে নেওয়া হয়। পথে ত্রিশাল এলাকায় প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে পুলিশের কাছ থেকে তিন জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেয় অন্য জঙ্গিরা। এর মধ্যে একজন বোমা মিজান। এরপর বোমা মিজানকে আর গ্রেফতার করা যায়নি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *