আপিল শুনানির ৪ বছর আগেই ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড

আইন আদালত জাতীয় সারাবাংলা

ডেস্ক রিপোর্ট: আপিল নিষ্পত্তির আগেই ২ আসামির ফাঁসি কার্যকর করার ঘটনা ঘটেছে যশোর কারাগারে।

এ ঘটনায় আসামিদের পরিবার থেকে বিচারবিভাগীয় তদন্ত চাওয়া হয়েছে। আর আপিল বিভাগে আগামী সপ্তাহে আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

২০১৭ সালে আপিল নিষ্পত্তির আগে আসামি মোকিমের ফাঁসি কার্যকর করে কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া অপর আসামি ঝড়ুরও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

আসামি মোকিম ও ঝড়ুর বাড়ি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায়। ১৯৯৪ সালের ২৮ জুন এলাকার সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার মো. মনোয়ার হোসেন খুন হন। এ ঘটনায় নিহতের চাচাতো ভাই মো. অহিমউদ্দিন বাদী হয়ে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে নাম আসে মোকিম ও ঝড়ুর। পরে ২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল মামলার বিচারে তিন জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ, দুই জনকে যাবজ্জীবন ও অপর আসামিদের খালাস দেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-২। মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্তরা একই ইউনিয়নের তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, মোকিম ও ঝড়ু।

এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ন কবির জানান, হাইকোর্ট ফাঁসির আদেশ দিলে এর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালেই আপিল করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আসামির পরিবার দাবি করেছেন ৪ বছর আগে ফাঁসি কার্যকর হয়ে গেছে। হাইকোর্ট যখন তাদের ফাঁসির আদেশ দেয় তখনই আমরা ২০১৩ সালে আপিল দায়ের করে রাখি। দীর্ঘ দিন পর আজকে তালিকায় আসে মামলাটি যেটি আপিল বিভাগের কার্য তালিকার ১১ নম্বরে আছে।

তিনি আরও বলেন, মামলাটি যখন তালিকায় আসে, তখন আমরা আসামির পরিবারকে খবর দেই। তখন তারা এসে আসামি মোকিমের স্ত্রী জানান, চার বছর আগেই ফাঁসি কার্যকর করেছে। তার আগে কারাগারে তারা শেষ সাক্ষাতও করেছেন বলে তিনি জানান। ফাঁসি কার্যকরের পর লাশ এনে দাফনও করা হয়।

ঘটনাটি আপিলের দৃষ্টিতে এনেছিলেন কিনা, এমন প্রশ্নে হুমায়ন কবির বলেন, আজকে মামলাটি তালিকায় থাকলেও শুনানি হয়নি। যেদিন শুনানি হবে সেটি আদালতের দৃষ্টিতে বিষয়টি আনব। ঘটনাটি যদি সত্যিই ঘটে থাকে তাহলে নিশ্চয় কারো না কারো ভুলে হয়েছে।

 

বিষয়টি বিচারবিভাগীয় তদন্তের জন্য আবেদন জানাবেন বলে জানান এই আইনজীবী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *