আফগান সরকার চায় যুদ্ধবিরতি, তালেবানের দাবি ‘ইসলামী শাসন’

আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাতারের শান্তি আলোচনায় আফগান সরকারের পক্ষ থেকে তালেবানকে কারাবন্দি যোদ্ধাদের মুক্তির শর্তে ‘মানবিক যুদ্ধবিরতি’র আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শান্তি ফেরাতে সবার আগে ‘ইসলামী শাসন ব্যবস্থা’ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে তালেবান। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুই দশক ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতে আফগানিস্তানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এবার শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশটির নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি আলোচনায় অংশ নিচ্ছে তালেবান। শনিবার থেকে কাতারের রাজধানী দোহায় তাদের ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দশক ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ছাড়াও দেশটিতে নারী অধিকার রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে আলোচনায়।

আফগান সরকারের প্রধান বলেছেন, তালেবানরা যুদ্ধবিরতির শর্তে তাদের কারাবন্দি যোদ্ধাদের মুক্ত করতে পারে। আফগান উচ্চ পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আমাদের সবাইকে মানবিক হতে হবে। প্রাণহানি বন্ধে উভয়পক্ষকেই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ আরও বলেন ‘ এ যুদ্ধের বিজয়ী নেই’।

তালেবানের পক্ষ থেকে তাদের নেতা আবদুল গনি বারাদার বলেছেন, সমঝোতার বিষয়টিকে ‘ধৈর্য্যের সঙ্গে এগিয় নিয়ে যাওয়া’ সম্ভব হবে। তিনি আফগানিস্তানকে দেখতে চান একটি ‘স্বাধীন, একত্রিত ও ইসলামী শাসন ব্যবস্থার অধীনে; যেখানে সমস্ত জাতি-গোত্রের মানুষ বৈষম্যহীন বাস্তবতায় বসবাস করবে’।

যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষকে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য উৎসাহিত করছে। সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে শান্তির সুযোগ গ্রহণের আহবান জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা আগামী দিন, সপ্তাহ এবং মাসের আলোচনায় নিঃসন্দেহে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবো।’

শান্তি আলোচনার আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছায় সশস্ত্র এ গোষ্ঠী। চুক্তি অনুযায়ী, সেনা প্রত্যাহার ও কারাবন্দি তালেবান সদস্যদের মুক্তি মিললে আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয় তারা। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মার্চ মাসে আফগান শান্তি আলোচনা শুরুর কথা থাকলেও তালেবানের এক বিতর্কিত নেতার মুক্তি নিয়ে মতবিরোধের জেরে তা পিছিয়ে যায়।

পর্দার আড়ালে কয়েক মাস দর কষাকষির পর অবশেষে আফগান সরকারের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেলেন তালেবান নেতারা। এই বৈঠক ফলপ্রসূ হলে তা ঐতিহাসিক ঘটনা হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কয়েক দশকের যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ফের শান্তির বাতাবরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *