আমন চাষাবাদ পিছিয়ে গেছে ॥ কাঙ্খিত ফসল না পাওয়ার শঙ্কায় চাষি

সারাবাংলা

মনিরুল হক মনি, বাগেরহাট থেকে
বাগেরহাটের শরণখোলায় বীজতলা ও কৃষি শ্রমিক সংকটে আমন চাষাবাদ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক মাস পিছিয়ে গেছে। সম্প্রতি অতিবর্ষণের জলাবদ্ধতায় উপজেলার ৮০ভাগ জমির বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমনের চারা সংকটে পড়েন চাষীরা। শেষ দিকে এসে নতুন করে চারা তৈরী করার জন্য বীজেরও সংকট দেখা দেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন এলাকা থেকে বীজ ধান সংগ্রহ করে চাষিদের মধ্যে বিতরণ করে কৃষি বিভাগ। তাও চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।এমন সংকটময় মুহূর্তে চাষিরা দিশেহারা হয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে চারা সংগ্রহ করে জমি পোরনের চেষ্টা করেন। চারা সংকটে এখনো অনেক চাষী তাদের জমি রোপন করতে পারেননি। চাষাবাদের মৌসুমও শেষ হয়ে আসছে। ফলে, এবার কাঙ্খিত ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কিনা এনিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন অনেক চাষী। এদিকে, বীজতলা নষ্ট এবং চারা সংকটের খবর গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রাক ভরে আমনের চারা এনে বিক্রি করছে মানুষ। উপজেলার আমড়াগাছিয়া বাজারে বসেছে স্থায়ী আমন চারার হাট। প্রায় এক মাস ধরে বরিশালের গৌরনদী থেকে আসা একটি দল সেখানে চারা বিক্রি করছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, বিভিন্ন দিক থেকে উফশি ও স্থানীয় জাতের চারা আসায় সংকট কেটে গেছে। সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষি শ্রমিক এনে চাষাবাদ করছেন চাষিরা। মৌসুম একমাস পিছিয়ে পড়লেও আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে কোনো সমস্যা হবে না। উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের উত্তর সাউথখালী গ্রামের চাষি মিজান হাওলাদার জানান, চারা না থাকায় এখনো দুই বিঘা জমি রোপন করতে পারেননি তিনি। এমনিতেই চাষাবাদে একমাস পিছিয়ে পড়েছেন। এখন চারা কিনে রোপন করতে হবে তাকে। চালিতাবুনিয়া গ্রামের চাষী শরৎ মন্ডল, রাজৈর গ্রামের লোকমান মোল্লা, তাফালবাড়ী গ্রামের লাল মিয়া মুন্সীসহ অনেই জানান, চারা সংকটের পাশাপাশি শেষ দিকে শ্রমিক সংকটও দেখা দেয়। ফলে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা জমি রোপন করতে পারেননি। সঠিক সময় চাষাবাদ না হলে ফলনও ভালো হয় না। এ কারণে কাঙ্খিত ফলন নিয়েও শঙ্কায় পড়েছেন তারা। গৌরনদী থেকে চারা বিক্রি করতে আসা হাজী মো. মোজাম্মেল হক জানান, তারা কয়েক জন মিলে এক মাস ধরে আমড়াগাছিয়া বাজারে স্থায়ী চারার হাট বসিয়ে দেশি জাতের আমনের চারা বিক্রি করছেন। চারার প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এক পোন (৮০মুঠি) চারা ৮শ থেকে এক হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। প্রতি সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০হাজার টাকার চারা। এই প্রথম তারা চারা বিক্রি করতে আসেন শরণখোলায়।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম উদ্দিন জানান, এবছর ৯ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে উন্নত ফলনশীল ও স্থানীয় জাতের আমনের চাষ হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮হাজার হেক্টরের চাষাবাদ সম্পন্ন হয়েছে। চারা সংকট হওয়ায় মৌসুম প্রায় একমাস পিছিয়ে পড়ে। তবে, বিভিন্ন এলাকা থেকে চারা আসায় এখন আর কোনো সংকট নেই। কৃষি কর্মকর্তা জানান, সংকট মোকাবেলায় চাষিদের নানাভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবছর ২৪ হাজার মেট্রিকটন ফসলের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সামনে যদি কোনো ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তাহলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *