আমার কারণে এক জাকিরের সংসার ভেঙে যেতে ধরেছিল : পলাশ

বিনোদন

বিনোদন ডেস্ক : আসল নাম জিয়াউল হক পলাশ। কিন্তু মজার ব্যাপার হল এই নামে তিনি যতটা পরিচিত তার চেয়ে বহুগুণ বেশি পরিচিত কাবিলা নামে। আর এমনটা হওয়ার কারণ ধারাবাহিক নাটক ব্যাচেলর পয়েন্ট। এই ধারাবাহিকটির মাধ্যমে ব্যাপকভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন পলাশ। তৃণমূলে পলাশের অসম্ভব জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ব্যাচেলর পয়েন্ট যেমন জনপ্রিয়, তেমনই এর নেতিবাচক কিছু বিষয়েরও মুখোমুখি হতে হয়। যেমন বজড়া বাজারের জাকিরা। একটা কল্পনা এতটাই বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে পারে, তা যেন কিছুতেই বিশ্বাস হতে চাইছিল না পলাশের। কিন্তু এমনটাই ঘটেছে।

পলাশের মুখ থেকেই শোনা যাক, ‘বজড়া বাজারের জাকিরা রোকেয়ায় ডিস্টার্ব করে, এটা শুধু নাটকের প্রয়োজনে অবতারণা হয়েছে। জাকিরাকে এমনভাবে তুলে ধরা হয়েছে আমার সংলাপে যেন সত্যিই জাকিরা রোকেয়া নামের আমার প্রেমিকার পেছনে ক্রমাগত লেগেই থাকে। কিন্তু আমি যে খবর শুনলাম, তাতে আমার বিস্ময় লেভেল বোঝানোই মুশকিল। সত্যিই নাকি বজড়া বাজারে জাকির নামের একজন রয়েছে। ব্যাচেলর পয়েন্টে ক্রমাগত জাকিরের প্রতি তীব্র অভিযোগ, সে-ই জাকিরের সংসারে ভাঙন সৃষ্টি করে। তার স্ত্রী মনে করেন, জাকির চরিত্রে সমস্যা রয়েছে। ব্যাচেলর পয়েন্টের সব ঘটনা বিশ্বাস করে সংসারই ভেঙে যেতে ধরল। আমি নোয়াখালী গিয়ে তাদের সংসার ঠিক করে এলাম। বোঝাতে পেরেছি যে নাটকের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। এমন কাকতালীয় ঘটনা কিভাবে ঘটে?’

ব্যাচেলর পয়েন্ট-এর যে জনপ্রিয়তা, আর তার মধ্যে কাবিলা চরিত্রটি অত্যধিক জনপ্রিয়। এতে করে পলাশের মধ্যে অহমিকাবোধ তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক- কিন্তু তিনি এটা মানতে নারাজ। বললেন, ‘আমার আজকের যে জনপ্রিয়তা- তা তো হওয়ার কথা ছিল না। হুট করেই হয়েছে। এ জন্য আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে দারুণভাবে কৃতজ্ঞ। তাই বলে আমার মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকারবোধ তৈরি হবে- এটা আমি চাই না। আমি ছোটবেলা থেকে ঢাকার নাখালপাড়ায় বড় হয়েছি। এই পাড়ায় এখনো আছি। এখানের মানুষজন জানে আমার কোনো পরিবর্তন হয়েছে কি না; এখনো স্বাভাবিকভাবেই চলাফেরা করি, কারণ কেউ যদি আমার সঙ্গে ৩০০ সেলফিও তুলতে আসে, আমি ‘প্যারা’ বোধ করি না।

এমন বসন্তের দিনেই জিয়াউল হক পলাশের জন্ম। জন্মদিন ব্যস্ততায় কাটছে। তার মাঝেই ইথারে মনে করলেন নিজের শৈশব। হতে চেয়েছিলেন ক্রিকেটার। স্কুল-কলেজে ক্রিকেটার হওয়ার দৌড়ে ছিলেন। সেখান থেকে ছিটকে গিয়েছেন। কিন্তু প্রকৃতি সেটা পুষিয়ে দিয়েছে অন্যভাবে। পলাশ স্মৃতি রোমন্থন করে বললেন, ‘আসলে আমাকে নানাভাবে নানা মানুষ প্রভাবিত করেছে। আমি ক্রিকেটার হতে চেয়েছি, স্কুল-কলেজে ক্রিকেট ভালো খেলতাম। কিন্তু দেখেন, আমি অভিনয়ে চলে এলাম।’

আবারও ব্যাচের পয়েন্ট প্রসঙ্গ, নোয়াখালীর মানুষকে হেয় করে ব্যাচেলর পয়েন্টে তুলে ধরা হচ্ছে- পলাশকে এই মর্মে অভিযুক্ত করে প্রশ্ন করা হয় নেটিজেনদের পক্ষ থেকে। কেননা ফেসবুকের দু-একটি গ্রুপে এ নিয়ে লেখা হয়েছে। পলাশ বিষয়টি মানতে নারাজ। বললেন, ‘এখানে তো বরিশালের শুভও রয়েছে, কাশিমপুরের পাশা ভাই রয়েছে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চরিত্র আসছে, চলে যাচ্ছে- তাহলে কি সবাই নিজ নিজ জেলার বদনাম করছে? আদতে তা নয়, এটা নিছক বিনোদন। এটাকে অন্যভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভালোমন্দ মিলিয়ে আমাদের সমাজ, আমাদের দেশ।’

দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে সঙ্গে থাকুন

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *