প্রতিবছর অনিবাসী বাংলাদেশিদের বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (সিআইপি) মর্যাদা দেওয়ার কারণে রেমিট্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বের নানাপ্রান্ত থেকে বৈধ চ্যানেলে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী বাংলাদেশি হিসেবে গত পাঁচ বছরে সিআইপি হয়েছেন ৩২৬ জন। এই তালিকায় এগিয়ে আছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। পাঁচ বছরে দেশটি থেকে কেবল সর্বাধিক রেমিট্যান্স পাঠিয়ে সিআইপি হয়েছেন ১৪৯ জন বাংলাদেশি। ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যথাক্রমে ৩০, ৩৭, ২৬, ১৬ ও ৪০ জন প্রবাসী আরব আমিরাত থেকে সিআইপির মর্যাদা পেয়েছেন।
বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক হিসেবেও দেশটি থেকে পাঁচ বছরে সিআইপির মর্যাদা পেয়েছেন আরও ১০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। দেশে এক লাখ ডলার প্রেরণ শর্তে সিআইপি আবেদনের সুবিধা থাকায় প্রতিবছর আবেদনের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে ঘুরে ফিরে সিআইপির সংখ্যা সেই ৯০ জনেই সীমাবদ্ধ।
গত বৃহস্পতিবার ২০২৬ সালের জন্য সিআইপি (অনিবাসী বাংলাদেশি) নির্বাচনের লক্ষ্যে আবেদন গ্রহণের সময় বেঁধে দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করবে মন্ত্রণালয়। এবারও তিনটি বিভাগে সর্বোচ্চ ৯০ জনকে বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) নির্বাচন করা হবে। আবেদন শেষে যাচাই-বাছাই করে বাংলাদেশে শিল্পক্ষেত্রে সরাসরি বিনিয়োগকারী ৫ জন, বৈধ পথে সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা প্রেরণকারী ৭৫ জন ও বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের আমদানিকারক ১০ জনকে সিআইপি নির্বাচন করা হবে। প্রবাসীরা বলছেন, আবেদনের বিপরীতে সিআইপির এই সংখ্যা বাড়ানো গেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত একবছরে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে একাধিক রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৩০.৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ পরিমাণ রেমিট্যান্স। সরকারের নানা পদক্ষেপ ও প্রচারের কারণে হুন্ডির মতো অবৈধ পন্থা পরিহার করে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হচ্ছেন প্রবাসীরা। আর প্রতিবছর অনিবাসী বাংলাদেশিদের সিআইপি নির্বাচিত করার কারণে বেড়েছে বৈধ পথে টাকা পাঠানোর প্রতিযোগিতা। প্রায় প্রতিবছরই সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যের প্রবাসীরা এই তালিকায় এগিয়ে থাকেন।
সরকার ঘোষিত সিআইপিরা দেশে বিনিয়োগ, ব্যবসা, ভ্রমণ, যাতায়াত ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন। এমন সুযোগ সুবিধার থাকার কারণেও বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। সিআইপির আবেদনের পাশাপাশি নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও অনেকে বৈধপথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করছেন। সিআইপির সংখ্যা বাড়ালে দিনে দিনে রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রতিযোগিতা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনাও দেখছেন প্রবাসীরা। তাতে অনেকে হুন্ডি ও অবৈধ পন্থায় নিরুৎসাহিত হবেন।
দুবাই বাংলাদেশ সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াকুব সৈনিক বলেন, সরকার মাত্র ৯০ জনের কোটা রেখেছে। প্রায় প্রতিবছর ৩৫-৪০ জন প্রবাসী কেবল আরব আমিরাত থেকে সিআইপির মর্যাদা পাচ্ছেন, যা একক দেশের সংখ্যা হিসেবে সবচেয়ে বেশি। সিআইপির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা গেলে আমিরাত প্রবাসীদের মতো অন্যান্য দেশ থেকেও আবেদনের সংখ্যা বাড়বে। এতে রেমিট্যান্স বৃদ্ধিরও সম্ভাবনাও বাড়বে। কারণ, এটি প্রতিযোগিতার মতো। সবাই বৈধ পথে দেশে সর্বাধিক রেমিট্যান্স পাঠাতে চেষ্টা করবেন, বিনিয়োগ বাড়াবেন।