আলুর আড়তে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের হানা, দশ আড়তদারের জরিমানা

সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো : কৃষি বিপনন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী আলুর পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও হঠাৎ করে আলুর দাম বাড়িয়ে খুচরা বাজারে আলু কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। যা অতীতের সব রেকর্ড ছেড়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষি বিপনন অধিদপ্তর আলুর মুল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করে এবং পরবর্তীতে ৩৫ টাকা পুনঃ নির্ধারণ করে। কিন্তু তারপরও আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে আসেনি। খুচরা বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে। পাইকাররা দুষছে খুচরা বিক্রেতাদের আর খুচরা বিক্রেতারা দুষছে পাইকারদের। আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. উমর ফারুকের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত নগরীর রিয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান চালিয়ে ১০ আড়তদারকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এসময় আলুর আড়তে দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত দামে আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা পাইকারি বিক্রয় করার নির্দেশনা থাকলেও তারা ৪০ টাকার উপরে বিক্রি করছিল। খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করার বিক্রয় রশিদও তারা দেখাতে পারেনি।বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আলুর দাম বৃদ্ধি করে আড়তদাররা আলু বিক্রি করছিল।যার ফলে ১০ টি আড়তকে প্রায় এক লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়।কুমিল্লা ট্রেডার্সকে বিশ হাজার টাকা,রফ রফ বাণিজ্যালয়কে বিশ হাজার টাকা, মেসার্স মক্কা বাণিজ্যালয়কে বিশ হাজার টাকা,মামুন ট্রেডার্স কে বিশ হাজার টাকা,মা বিতান বিশ হাজার টাকা,কুসুমপুরা বানিজ্যালয়কে দশ হাজার টাকা),জননী ট্রেডার্সকে দশ হাজার টাকা,দাউদকান্দি বাণিজ্যালয় দশ হাজার টাকা,নিউ রাজমহল বাণিজ্যালয়কে পাঁচ হাজার টাকা,আশীষ লালধর এন্ড ব্রাদার্সকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনাকারী জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক ঢাকা প্রতিদিনকে বলেন, সরেজমিনে দেখা যায় সরকার পাইকারি ক্ষেত্রে আলুর দাম সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কেজি নির্ধারণ করে দিলেও আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা ৪২ টাকার উপরে বিক্রয় করছিল।এমনকি খুচরা ব্যাবসায়ীদেরকে কোন ধরনের বিক্রয় রশিদ দেয়নি।যার ফলে বিক্রয় রশিদ ও ক্রয় রশিদ দেখাতে পারেনি।অর্থাৎ দাম নিয়ে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়।তাই ১০ আড়তদার ও পাইকারি ব্যাবসায়ীকে জরিমানা করা হয়।অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বদিউল আলম ঢাকা প্রতিদিনকে বলেন,আমাদের বাজার মনিটরিং অব্যাহত আছে।তারপরেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকারের বেঁধে দেয়া দামে আলু বিক্রয় না করার অভিযোগ আমাদের কাছে আসে। যার ফলে অভিযানে যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। অভিযান প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক ইলিয়াস হোসেন বলেন,যারা দাম কারসাজির মাধ্যমে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করছে তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও যারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের বাজার মনিটরিংসহ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *