আশাশুনি সদরে ৯ মাসেও বাঁধ আটকানো হয়নি

সারাবাংলা

আকাশ হোসেন, আশাশুনি থেকে:
আশাশুনিতে দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সদরের দয়ারঘাট গ্রামে রিং বাঁধ দিয়েই খোলপেটুয়া নদীর জোয়ারের পানি আটকানো হচ্ছে। আম্পানে ভেঙে যাওয়া ক্ষতিগ্রস্থ্য ছোট ছোট ৩ টি পয়েন্টে ৯ মাস ধরে বাঁধতে পারেনি পানি উন্নয় বোর্ডের কর্মকর্তারা। এ নিয়ে এলাকায় স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভের অন্ত নেই। শীতের সময় কাজ হবে করে করে আবার বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে। কিন্তু বাঁধ বাঁধার দৃশ্যমান কোন প্রক্রিয়া এখনো পর্যান্ত দেখা যায়নি। এদিকে চলতি পূর্ণিমার গোণে গত রোববার রাতের জোয়ারে দয়ারঘাট গ্রামের ওই রিং বাঁধের অন্তত ৪টি পয়েন্টে ছিদ্র হয়ে জোয়ারের পানি আবার লোকালয়ে ঢুকেছে। রাতে পানি ঢুকছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ভীত সন্ত্রন্ত হয়ে পড়ে। এরপর সবাই এগিয়ে এসে ক্ষতিগ্রস্থ্য রিং বাঁধ যেনতেন ভাবে মেরামত করে জোয়ারের পানি আটকে দিয়েছেন। এরমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো কর্মকর্তা এলাকায় আসেননি বা খবর নেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। রবিবার রাতের জোয়ারে দয়ারঘাট গ্রামের বাসিন্দা মনিন্দ্র মন্ডলের ঘরের ভেতর দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকতে শুরু করে। তিনি জানান- আম্পানে ভেঙে যাওয়ার পর রিং বাঁধের উপর এনজিও’র দেওয়া টিন দিয়ে দুটি ঘর বেঁধে বসবাস করছিলাম। রবিবার রাতে জোয়ারের পানি আমার ঘরের ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে। এতে আমার দোকান ঘরের ভিতের মাটি ধুয়ে গেছে। এছাড়া দোকান ও বসতঘরে থাকা প্রয়োজনীয় মালামাল ভেসে গেছে।
রিং বাঁধের উপর বসবাসকারী আরেক বানভাসি দুখীরাম মন্ডল জানান- রাতে জোয়ারের জল রিং বাঁধের কানায় কানায় উঠছে। পিঠের নিচে পানি চলে আসছে। উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় নির্ঘুম ভাবে রাত কাটাতে হচ্ছে আমাদের। পার্শ্ববর্তী মনিন্দ্র সানা জানান, রাতের জোয়ারে আমার বাড়ীর সামনে একটি কার্লভাটের পাশ থেকে বড় ঘোগা হয়ে প্রবল বেগে জল ঢুকেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানালে তিনি লোকজন দিয়ে কোন মতে বাঁধটি মেরামত করে দিয়েছেন। কিন্তু সমস্ত রিং বাঁধ চুঁইয়ে যেভাবে পানি ভেতরে ঢুকছে তাতে যেকোন মুহুর্তে এই সরু রিং বাঁধ ভেঙে আবারও প্লাবিত হতে পারে পার্শ্ববর্তী এলাকা।
এদিকে দয়ারঘাট গ্রামের নিমাই মন্ডলের বাড়ি থেকে বলাবাড়িয়া গ্রামের সুনীল মন্ডলের বাড়ি পর্যন্ত কোন ওয়াপদা রাস্তাই নেই। ১৯৯৫ সালে বলাবাড়িয়া গ্রামে ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে এ জায়গাটা গভীর খালে পরিণত হয়। এরপর প্রায় ২ হাজার বিঘা জমি ঘুরে রিং বাঁধের মাধ্যমে জোয়ারের পানি আটকে দেয়া হয়। দীর্ঘদিন এ খালে খেয়া-পারাপার হয়েছে। প্রায় ১০ বছর পর মূল বাঁধ থেকে সরে ক্লোজার চাপান দেয়া হয়। এরপর ওই ২ হাজার বিঘাতে মৎস্য চাষ শুরু করেন খুলনার জনৈক ব্যবসায়ী আব্দুল হাই বাহার। তার মৎস্য ঘেরের বাঁধটিই অদ্যবধি ওয়াপদা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত আমফানের জলোচ্ছ্বাসে এ বাঁধ ছাপিয়ে হু হুু করে জোয়ারের পানি ভেতরে ঢুকে আরও ৪ জায়গায় ভেঙ্গে যায়। ৩৯ দিন পর বিভিন্ন পত্রিকায় নিউজ হলে সেই বাঁধ সম্পন্ন হয়। এ ৩৯ দিন বলাবাড়িয়া গ্রামের মানুষের চরম দূর্ভোগে দিনাতিপাত করতে হয়েছে। সরকারি রাস্তা না থাকায় স্বাধীনতার ৪৭ বছর পরেও আশাশুনি সদর থেকে বলাবাড়িয়ায় যাতায়াতের কোন ইটের সোলিংও নেই। বর্ষা মৌসুমে এ গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এভাবেই তারা বছরের পর বছর পার করে যাচ্ছেন। দয়ারঘাট গ্রামের রিং বাঁধ সরিয়ে মুল বাঁধ টেঁকসই ভাবে নির্মাণ ও দয়ারঘাট থেকে বলাবাড়িয়া গ্রাম পর্যন্ত স্থায়ী ওয়াপদা রাস্তা নির্মাণের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *