আড়িয়াল খার ভাঙন ॥ দুশ্চিন্তায় মানুষ

সারাবাংলা

ছিদ্দিক মিয়া, কটিয়াদী থেকে:
এবার বর্ষা শুরু হবার আগেই কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুড়ি ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা চকবাজার গ্রামের আড়িয়াল খা নদীর পাড় এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে কয়েক গ্রামের লোকজন। উপজেলার চরাঞ্চালে নদী ভাঙন নতুন কিছু নয়। বিঘের পর বিঘে চাষের জমি, অসংখ্য বসত বাড়ি ফি-বছর চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। গত বছর ঠিক এই সময়ে ভয়াবহ নদী ভাঙনের কবলে পড়ে লোহাজুরী ইউনিয়নের পূর্বচর পাড়াতলা, জালালপুর ইউনিয়নের মধ্য চরপুক্ষিয়া, মসূয়া ইউনিয়নের বৈরাগীচর গ্রামের বাসিন্দারা। বছর ঘুরতে ফের নতুন করে নদী ভাঙনের আশংকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন নদীর পাড়ে বসবাসকারী এসব গ্রামের মানুষরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কটিয়াদী উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ ও তারা শাখানদী আড়িয়ালখাঁ নদীর জলস্তর বাড়ার ফলে গত বছর বর্ষার সময় নদী ভাঙনে কয়েকশ গাছ,কৃষিজমি,বসতভিটা, রাস্তা, দোকান বিলীন হয়ে গেছে। গত বছর স্থানীয় সংসদ সদস্য কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করে। এ প্রেক্ষিতে বাঁশ ও জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জিও ব্যাগ দেয়া হলেও তার বেশিরভাগ এখন নদীগর্ভে। গুটি কয়েক জিও ব্যাগ ও শুকনো বাঁশ অসহায় ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রকৃতির সঙ্গে অসম লড়াই করে ভাঙন রুখতে। এ সময় কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দার ফুলবানুসহ আরও অনেকের সঙ্গে।তারা বলেন, এখনই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেয়া হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। তারা স্থায়ী ভাঙন রোধে সিসি ব্লক ফেলার দাবী জানান।
স্থানীয় বাসিন্দার আঃ মান্নান বলেন এবার বর্ষা আসার আগেই আমাদের গ্রামটিতে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এখন থেকেই ভাঙ্গন রোধে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয় তাহলে অচিরেই গ্রাম তিনটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
স্থানীয় সোনাম উদ্দিন বলেন, আমার মোটামোটি ৭৫ বছর বয়স। এ বসয়সে ছোট আকারে অনেক ভাঙ্গন দেখেছি। কিন্তুু এবার যে ভাঙনে ধরেছে ভয়ংকর ভাঙন। এখন আমরা হতাশায় পড়ে গেছি। আবাদি জমি ও গাছ পালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে ইউএনও জ্যোতিশ্বর পাল জানান, সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ স্যারের পরমর্শমতে আমি ইতিমধ্যে নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *