ইউএনওর ওপর হামলা মামলায় জামিনে মুক্ত নৈশপ্রহরী পলাশ

আইন আদালত

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সদ্য ওএসডি হওয়া) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫ আসামির মধ্যে তার বাসভবনের নৈশপ্রহরী নাদিম হোসেন পলাশকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

গ্রেফতারের একমাস পর রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে তাকে জামিন দেন দিনাজপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আঞ্জুমান আরা। সন্ধ্যার দিকে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

দিনাজপুরের আদালত পুলিশের পরিদর্শক ইসরাইল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামিনপ্রাপ্ত নাদিম হোসেন পলাশ (২৬) দিনাজপুর সদর উপজেলার পরজপুর গ্রামের সুলতান মাহমুদের ছেলে ও ঘোড়াঘাট ইউএনওর বাসভবনের নৈশ প্রহরী। ওই মামলায় তাকে গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার দেখায় দিনাজপুরের ডিবি পুলিশ। তবে এর আগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘোড়াঘাট ইউএনও ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় মোট ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা হলেন- ঘোড়াঘাট ইউএনও কার্যালয়ের বরখাস্তকৃত মালি রবিউল ইসলাম, ঘোড়াঘাট পৌর যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা আসাদুল ইসলাম, রংমিস্ত্রী নবীরুল ইসলাম, সান্টু কুমার দাস ও ইউএনওর বাসভবনের নৈশ প্রহরী নাদিম হোসেন পলাশ।

এদের মধ্যে বরখাস্তকৃত মালিক রবিউল ইসলাম এই ঘটনায় সম্পৃক্ত থাকা ও হামলার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আর আবেদনের প্রেক্ষিতে শুধুমাত্র পলাশকে জামিন দিলেন আদালত।

এদিকে র‌্যাবের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দেয়া আসাদুল ইসলামকে গত ৬ সেপ্টেম্বর ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় দিনাজপুর ডিবি পুলিশ। এর আগের দিন ৫ সেপ্টেম্বর রংমিস্ত্রী নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

এই তিন আসামির ৭ দিনের রিমান্ড শেষে কোনোরকম জবানবন্দি ছাড়াই আসামি নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার দাসকে ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এবং আসামি আসাদুল ইসলামকে পরের দিন শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়। নতুন কোনো আবেদন না থাকায় তাদের জেলহাজতে পাঠান আদালত।

ইউএনওর বাসভবনের নৈশপ্রহরী আসামি নাদিম হোসেন পলাশকে গত ১২ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ড আবেদন ছাড়াই আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠান। একইদিন ইউএনও অফিসের বরখাস্তকৃত কর্মচারি আসামি রবিউল ইসলামকে আদালতে সোপর্দ করে ৬ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়।

৬ দিনের রিমান্ড শেষে ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করে দ্বিতীয় দফায় আবার ৩ দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি পুলিশ। অবশেষে ২ দফায় মোট ৯ দিনের রিমান্ড শেষে গত ২০ সেপ্টেম্বর রবিউল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়।

সেদিন রবিউল ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার স্বীকারোক্তি এবং পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী গ্রেফতারকৃত ৫ আসামির মধ্যে তিনিই একমাত্র এই হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত। বাকিরা নয়। ইতোমধ্যে পুলিশ ৫টি প্রমাণের ভিত্তিতে রবিউলই এই ঘটনায় একমাত্র জড়িত বলে নিশ্চিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে সরকারি বাসভবনে ঢুকে ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ওমর আলী শেখকে নির্মমভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে দুর্বত্তরা।

এই ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বড়ভাই শেখ ফরিদ উদ্দীন বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি ঘোড়াঘাট থানা থেকে দিনাজপুর ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *