ইজারার নামে চাঁদাবাজি

সারাবাংলা

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ থেকে
মানিকগঞ্জের শিবালয়ে আরিচা ফেরিঘাটে মহাসড়কের ওপর যানবাহন থামিয়ে অবৈধভাবে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফেরি পারাপারকৃত একাধিক গাড়ির চালক ও স্থানীয় যানবাহনের চালকরা পার্কিং চার্জ নেওয়ার নামে এসব অবৈধ চাঁদাবাজির অভিযোগ করেছেন।
জানা যায়, আরিচা ফেরিঘাটে মিনি টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনালের পার্কিং চার্জ আদায়ের জন্য ইজারাদার নিয়োগ দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য আরিচা ঘাটের মিনি টার্মিনাল ও ট্রাক টার্মিনালের পার্কিং চার্জ আদায়ের জন্য ইজারাদার নিয়োগ দেয় বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। দেশব্যাপী মহামারি করোনার কারণে ২০২১-২২ অর্থবছরে দ্বিতীয় মেয়াদে ইজারা না দিয়ে আগের মেয়াদের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইজারাদাররা শুধুমাত্র টার্মিনালে অবস্থানকারী যানবাহন থেকে পার্কিং চার্জ নিতে পারবে। আর ফেরী পারাপারের জন্য টার্মিনালে অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের পাকিং চার্জ আদায় করে সরাসরি বিআইডব্লিইটিএ কর্তৃপক্ষ। আরিচা ফেরিঘাট দিয়ে পাবনার কাজিরহাটে যাওয়ার সময় যানবাহন থেকে পার্কিং চার্জ না নিলেও পাবনার কাজিরহাট থেকে আরিচা ফেরিঘাট দিয়ে পার হওয়া গাড়ি থেকে পার্কিং চার্জের নামে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে ইজারাদারের লোকজন। প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ঘর বসিয়ে রশিদের মাধ্যমে চাঁদা আদায় করছে ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন। ভুক্তভোগী একাধিক ট্রাক চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাবনার কাজিরহাটে ফেরী পার হওয়ার আগে বিআইডব্লিউটিএ’র টার্মিনাল চার্জ পরিশোধ করতে হয়। ফেরী পার হওয়ার পর কোনো পার্কিং চার্জ দেওয়ার নিয়ম না থাকলেও আরিচা ঘাটে ইজারাদারের লোকজন অবৈধভাবে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদা দিতে না চাইলে ইজারাদারের লোকজন তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধামকি দেয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিআইডব্লিউটিএ’র টার্মিনালে থাকা যানবাহন থেকে টার্মিনাল চার্জ নেওয়ার পাশাপাশি শিবালয় থানার সামনে সড়ক ও জনপথ বিভাগের রাস্তার ওপর গাড়ি থামিয়ে ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহন থেকেই পার্কিং চার্জ আদায় করছে ইজারাদারের লোকজন। এই অবৈধ চাঁদাবাজির ঘটনায় ফেরী পার হওয়া যানবাহনের শ্রমিক ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা গেছে। গাড়ি চালকদের সঙ্গে ইজারাদারের লোকজনের কথা কাটাকাটির বিষয়টিও নজরে আসে। পাবনা থেকে আসা আরিচা ফেরী ঘাট পার হওয়া ট্রাক চালক রহিম মিয়া বলেন, পাবনার কাজিরহাটে একবার ৭৫ টাকা টার্মিনাল চার্জ দিয়ে এসেছি। ফেরি পার হয়ে আরিচা ঘাটে নামার পর সড়কে ট্রাক থামিয়ে টার্মিনাল চার্জের নামে আবারও জোর করে ৫০ টাকা করে চাঁদা নিচ্ছে। চাঁদা দিতে না চাইলে তারা নানা ধরনের হুমকি দেয়। আবার মধ্যে মধ্যে মারতে আসে।
আব্দুল কুদ্দুস নামের আরেক ট্রাক চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর কোন ঘাটে ফেরী পার হয়ে পার্কিং চার্জের নামে চাঁদা দিতে হয় না। শুধু আরিচা ঘাটেই এই অনিয়ম চলে। এই ঘাট দিয়ে ফেরী পার হলে দুইবার করে টার্মিনাল চার্জ দিতে হয়। এরকম নিয়ম আর কোথাও দেখি নাই।
ট্রাক চালক আক্কাস আলী বলেন, ইজারাদারের লোকজনের সামনে পড়লেই পার্কিং চার্জের জন্য গাড়ি আটকে রাখে। টাকা না দিলে ইজারাদারের লোকজন মারধর করতে আসে। স্থানীয় এক পিকআপ চালক আব্দুর রহমান বলেন, আমরা আশপাশেই লোকালে ট্রিপ মারি। এই রাস্তা দিয়ে যতবার যাই ততবারই আমাদের পার্কিং চার্জ দিতে হয়। টাকা দিতে না চাইলেই ইজারাদারের লোকজন আমাদের সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহার করে। এ নিয়ে মধ্যে মধ্যেই তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়।
আরিচা ফেরী ঘাটের টার্মিনালের ইজারাদার বিশ^জিত কুমার দাস বলেন, আমরা দুইটা টার্মিনাল ইজারা নিয়েছি। আমরা স্থানীয় যানবাহনসহ ফেরী পার হওয়া সব গাড়ি থেকেই পার্কিং চার্জ নেই। এখান দিয়ে যেসব গাড়ি যাবে সব গাড়ি থেকেই আমাদের পার্কিং চার্জ নেওয়ার বৈধতা আছে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ আরিচা নদী বন্দরের সহকারী সমন্বয় কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, যেসব গাড়ি টার্মিনালে অবস্থান করে শুধুমাত্র সেসব গাড়ি থেকেই পাকির্ং চার্জ নিতে পারবে। যেসব গাড়ি ফেরি পার হয়ে টার্মিনালে অবস্থান না করে সরাসরি চলে যায় সেসব গাড়ি থেকে পাকির্ং চার্জ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর স্থানীয় গাড়ি চালকরা যদি টার্মিনাল ব্যবহার না করে সামনের রাস্তা দিয়ে চলাচল করে সেসব গাড়ি থেকেও পার্কিং চার্জ নেওয়ার বিধান নেই। অবৈধভাবে পাকির্ং চার্জ নেওয়ার বিষয়ে কেউ অভিযোগ করলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে শিবালয় পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফিরোজ কবির বলেন, ঘাট এলাকার দুইটা টার্মিনাল বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ ইজারা দিয়েছে। টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার পরও ইজারাদাররা যদি কোনো অবৈধ কাজ করে থাকে, তাহলে সেটা দেখার এখতিয়ার বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষের। তবে অবৈধভাবে টাকা নেওয়ার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করে, তাহলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেবো।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *