ইজিবাইকের দাপট

সারাবাংলা

খুলনা সংবাদদাতা
গায়ে গায়ে লেগে থাকা ইজিবাইকের জন্য ফুটপাতবিহীন সড়কে হাঁটা-চলা করাই এখন বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানজটে খুলনা নগরবাসীর জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রাইভেটকার নিয়ে সড়কে বেরই হওয়া যাচ্ছে না। ইজিবাইকের অদক্ষ চালক, যেখানে-সেখানে ইউটার্ন নেওয়া ও যাত্রী ওঠানো-নামানোর কারণে মধ্যে মধ্যেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। অথচ এসব দেখার কেউ নেই। আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিলেন মহানগরের সোনাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম।
জয়বাংলার মোড়ের বাসিন্দা প্রকৌশলী মো. খালিদ হাসান বলেন, গণপরিবহনের ব্যবস্থা না থাকায় এক সময় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা হয়ে উঠেছিল নগরবাসীর চলাচলের নির্ভরযোগ্য বাহন। কিন্তু দিন যতো গড়িয়েছে বেড়েছে অটোরিকশার সংখ্যা। প্রতিদিনই সড়কে নামছে নতুন নতুন ইজিবাইক। এতে নগরবাসীর চলাচলের প্রধান সড়কগুলোতে লেগে থাকছে যানজট। ফলে ভোগান্তি বাড়ছে নগরবাসীর। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর প্রবেশমুখের অর্ধেক অংশ দখল করে যাত্রী উঠা-নামা করে ইজিবাইক চালকরা। ফলে এসব স্থান দিয়ে পথচারীসহ অন্য যানবাহন চলাচল চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, বিষফোঁড়া নামে পরিচিত ইজিবাইক আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে মহানগরে। প্রতিদিনই এ ইজিবাইকের আঘাতে কোনো না কোনো স্থানে ঘটছে দুর্ঘটনা। পথচারীরাও রেহাই পাচ্ছেন না। শুধু তাই নয়, ইজিবাইক চালকদের হাতে লাঞ্ছিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ট্রাফিক পুলিশ এদের নিয়ন্ত্রণ করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। আর এ ব্যর্থতার কারণে গোটা শহর যেন গ্রাস করে ফেলেছে এ ইজিবাইক। সঙ্গে যোগ হয়েছে ইঞ্জিনচালিত রিকশা। ফলে শহরময় যানজট স্থায়ী রূপ ধারণ করেছে। প্রশাসন ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত এসব ভ্যানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার পর কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও আবারো সড়কে ফিরে আসে অবৈধ এসব যানবাহন।
অভিযোগ রয়েছে, নগরে ইজিবাইক চলাচল নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পদক্ষেপ নিলেও ধীর গতিতে চলছে অগ্রগতি। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহায়তায় গত ১৫ জানুয়ারি থেকে বাইরের ইজিবাইক নগরে প্রবেশ বন্ধ করে দেয় কেসিসি। এজন্য নগরের আটটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসায় কেসিসি ও ট্রাফিক পুলিশ। তবে এ কার্যক্রম এখন অনেকটা ঝিমিয়ে পড়েছে। যত্রতত্র নগরের বাইরের ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাজার হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশার এলোমেলো চলাচলের কারণে নগরের কেডিএ অ্যাভিনিউ সড়ক, শামসুর রহমান রোড, সিমেট্রি রোড, বেনী বাবু রোড, খানজাহান আলী রোডের ফেরিঘাট মোড় থেকে রয়্যালের মোড় এবং সিটি কলেজ হয়ে পিটিআই মোড় পর্যন্ত প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট লেগে থাকছে। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, খুলনার অধিকাংশ ইজিবাইকেরই চলাচলের জন্য বৈধ কোনো অনুমতিপত্র নেই। চালকদের নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স। এমনকি চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কেও কোনো ধারণা নেই। ফলে এসব চালকদের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
খুলনা মহানগর নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর আহ্বায়ক এস এম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের খোঁড়াখুঁড়ি এবং ট্রাফিক অব্যবস্থাপনার কারণে সড়কে চলাচল করা এখন দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচল। খুলনায় ইজিবাইকের সংখ্যা এতোটাই বেড়েছে যে শুধু সড়ক পার হওয়া নয়, ইজিবাইকের আধিক্যে রীতিমতো আতঙ্কিত সবাই। নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এক সময়ের জনপ্রিয় যানটিই এখন নগরবাসীর কাছে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় দিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। এদিকে কেসিসি সূত্রে জানা যায়, সড়কে শৃঙ্খলা পেরাতে আগামী অক্টোবর মাসেই দেওয়া হবে ইজিবাইকের লাইসেন্স। এবার সাত হাজার ৮৯৪টি লাইসেন্স বই দেওয়া হবে। নগরে ইজিবাইকের প্রবেশ বন্ধ করতে আটটি প্রবেশপথে বসানো চেকপোস্ট অকার্যকর। যত্রতত্র শহরে ঢুকছে ইজিবাইক। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেএমপির ডিসি (ট্রাফিক) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *