ইভ্যালির রাসেল দম্পতিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আইনজীবীর মামলা

আইন আদালত জাতীয় লিড ১

ডেস্ক রিপোর্ট: ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) শামীমা নাসরিনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে আরও একটি মামলা হয়েছে।

আলমগীর হোসেন রিগ্যান নামে এক আইনজীবী গত ২৭ সেপ্টেম্বর মামলাটি আবেদন করেন বলে বুধবার সংশ্লিষ্ট আদালতের সূত্রে জানা গেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তারের আদালতে মামলাটির আবেদন করা হয়।

এরপর ওইদিনই আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে নথি পর্যালোচনায় খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী রিগ্যান গত ৩০ এপ্রিল রাত ১০টায় ইভ্যালিতে সাইক্লোন অফারটি দেখতে পান এবং ১ মে রাতে ইভ্যালি থেকে একটি মোটরবাইক অর্ডার করেন। যার মূল্য ডিসকাউন্ট দিয়েছিল ৭০ হাজার ৯৯ টাকা ও বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এরপর ৩ মে রাতে অর্ডারকৃত পণ্যের জন্য ‘নগদ’ অ্যাপ ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করেন। ইভ্যালির নিয়ম অনুসারে ৭ দিন থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে বাইকটি বা বাইকের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও আসামিরা ১৪৯ দিনেও কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এজন্য তিনি আদালতে মামলাটি করেন।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি মামলা হয়। আরিফ বাকের নামে ইভ্যালির এক গ্রাহক মামলাটি দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর ওইদিন বিকেলেই রাসেলকে আটক করে র‍্যাব সদরদপ্তরে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের গুলশান থানার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়।

পরদিন বিকালে ঢাকা মহানগর হাকিম আতিকুল ইসলাম ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী শামীমা নাসরিনকে (প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান) ৩ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন। এরপর এই দুজন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও মামলা হয়। সর্বশেষ আইনজীবী রিগ্যান মামলা করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর সাধারণ মানুষকে বাজারের চেয়ে কম দামে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে সাইক্লোন (পরবর্তী সময়ে টি-টেন নামকরণ) অফার দিয়ে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে ইভ্যালির বিরুদ্ধে। সাত থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিলেও তাদের পণ্য সরবরাহ করেনি ইভ্যালি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আগাম মূল্য পরিশোধ করা অনেক গ্রাহক এখনো পণ্য পায়নি। ইভ্যালি যেসব গ্রাহককে রিফান্ড চেক দিয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় সেগুলোও বাউন্স হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *