ইলিশ সংরক্ষণে সহায়তা না করলে কারাগারে পাঠানো হবে : মন্ত্রী

জাতীয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইলিশ মাছ ধরা, বিক্রি ও পরিবহনের ওপর ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞার শুরুতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, কেউ ইলিশ সংরক্ষণে সহায়তা না করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত থাকবে। ২২ দিন গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, সমুদ্র মোহনায় কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার থাকবে।
মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রতিবছরের মতো এ বছরও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচির আওতায় নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন সমুদ্র উপকূলসহ সারা দেশে কঠোর নজরদারি চালানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী রেজাউল করিম।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আজ বুধবার নৌ পুলিশের ব্যবস্থাপনায় নারায়ণগঞ্জের মেঘনা ব্রীজ ঘাট থেকে নৌপথে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ঘাট পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে অংশগ্রহণ করেন মন্ত্রী।

এ সময় শত শত জেলে ও মৎস্যজীবীরা নদীতে নৌকা ও ট্রলারে করে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের গুরুত্ব সম্বলিত শ্লোগান দিয়ে ও গান গেয়ে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেন।

মন্ত্রী রেজাউল করিম বলেন, আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করব, কেউ মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ধুলিসাৎ করার জন্য ভূমিকা রাখছেন কি না। যারা মা ইলিশ সংরক্ষণে সহায়তা করবেন না তাদের ঠিকানা হবে জেলখানা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের সাথে সাথে সাজা দেওয়া হবে।
কাজেই কোনো দুর্বৃত্তের প্ররোচনায় মৎস্যজীবী ভাইয়েরা মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে বিঘ্ন ঘটাবেন না বা নিয়মের বাইরে কোথাও আসবেন না।

তিনি বলেন, ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানকে নস্যাৎ করার জন্য কেউ যদি গভীর রাতেও মা মাছ ধরতে আসেন তাদের আটকানোর জন্য নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর অভিযান চলমান থাকবে। এমনকি আকাশপথে নজরদারির জন্য বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার থাকবে।
মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপকূলীয় জেলা ও দক্ষিণাঞ্চল মিলিয়ে ৩৬টি জেলায় এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় প্রথমবারের মতো বরিশাল বিভাগের ছয়টিসহ মোট ১৭টি জেলায় বরফ উৎপাদন বন্ধ থাকবে।
বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের ৮০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে আহরিত হয়।
এই ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময় বরিশাল বিভাগের দুই লাখ ৮২ হাজার ৫০০ জেলে পরিবারের জন্য পাঁচ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন চাল এবং সারা দেশে পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৩৪২টি জেলে পরিবারের জন্য মোটি ১০ হাজার ৫৬৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে বলে মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে।
শ মে রেজাউল করিম বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের সময় মৎস্যজীবীরা যাতে কষ্টে না থাকেন সেজন্য এবার অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভিজিএফ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি বরাদ্দ করা হবে।
ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ইলিশ ধরা ও বিক্রির ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যবস্থা শুরু হয়েছে ২০১০ সাল থেকে।
দশ বছর আগে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে যেখানে ইলিশের উৎপাদন ছিল দুই লাখ ৯৮ হাজার মেট্রিক টন, এখন তা বেড়ে পাঁচ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন হয়েছে। এই উল্লম্ফনের পেছনে মা ইলিশ সংরক্ষণের ভূমিকা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মৎস্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, এ বছর মা ইলিশের প্রজনন হার ৫০ শতাংশের বেশি হবে। গত বছর প্রায় ৪৮ দশমিক ৯২ শতাংশ ডিম নিষিক্ত হতে পেরেছিল।
বুধবার সকাল থেকে রাজধানীর সোয়ারীঘাট মাছের আড়ৎ এবং তৎসংলগ্ন বিভিন্ন নদী এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে কোস্টগার্ডের ঢাকা জোনাল টিম।
মৎস্য আইন অনুযায়ী প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে সচেতনতা কার্যক্রমের পাশাপাশি আইন প্রয়োগে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এই অভিযানের আওতায় কোস্ট গার্ডের ৫টি ঘাঁটি, ২৩টি ছোট-বড় জাহাজ এবং ৫৮টি স্থায়ী ও ৪টি অস্থায়ী কন্টিনজেন্টের সদস্যরা শতাধিক বোটের মাধ্যমে নদীতে সার্বক্ষণিক টহল দিচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *