ইসলামপুর : কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্প শ্রমিকের বদলে ড্রেজার

সারাবাংলা

রুহুল আমিন হারুন, ইসলামপুর থেকে:
জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলায় কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পে শ্রমিকের বদলে শুরুতেই উন্নয়মূলক প্রকল্পে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। শ্রমিকের কাজ ড্রেজারে করে পকেট ভারি হচ্ছে কর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের। আর এ বিষয়ে স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ড্রেজারের পরিবর্তে শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর লিখিত আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। কিন্তু স্থানীয় চেয়ারম্যানের দাবি উপরের মহল থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিটা কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চতলাপাড়া শুকুর মেম্বারের বাড়ি থেকে জুনাব ব্যাপারীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই প্রকল্পের নামে শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটার নিয়ম থাকলেও কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা সরকারি নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করেই অধিক লাভের আশায় দশআনী নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে রাস্তা সংস্কার কাজ চালানো হচ্ছে। ফলে একদিকে নিজের পকেট ভারি করছে, অপরদিকে দুর্ভোগ ও ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় কৃষকসহ শ্রমিক ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দশআনী নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে ওই প্রকল্পে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে ওই এলাকার হতদরিদ্র শ্রমিক। অপরদিকে ফসলি জমিসহ দুইপাড় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা রয়েছে। ওই এলাকার হতদরিদ্র কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, করোনা ও বন্যার কারণে বেকার হয়ে পড়েছি। আশায় বুক বেঁধে ছিলাম সরকারের উন্নয়নমূলক কাজ শুরু হলে কাজ পাবো। আমাদের পেটে লাথি মেরে পকেট ভারির জন্য ড্রেজার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তাই গত বৃহস্পতিবার ইউএনও স্যারকে লিখিত আবেদন দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। স্থানীয় একাধিক শ্রমিক জানান, আমরা গরিব খেটে খাওয়া মানুষ। আমাদের কাজ দরকার। আমাদের কাজ না দিয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার কাজ করছে। এটা কি সরকারের নিয়ম? স্থানীয় কৃষক লাল মিয়া জানান, আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কথা শুনবে কে? আমার পাশের জমি (দশ আনী নদী) থেকে অবৈধ ভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। আমার হাই হুতাশ ছাড়া আর কিছুই করার নেই। প্রশাসন অন্ধ হয়ে গেছে। এ বিষয়ে চরপুটিমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সুরুজ্জামান মাস্টার জানান, সেখানে মাটি কাটার ব্যবস্থা না থাকায় উপরের মহল থেকে অনুমতি নেওয়া আছে। অনুমতির কপি দেখতে চাইলে তিনি জানান, মৌখিকভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করার অনুমতি নিয়েই কাজ করা হচ্ছে।
ইসলামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মেহেদী হাসান টিটু জানান, ওই প্রকল্পের কমিটি এখন পর্যন্তই পাইনি, তারা কিভাবে ড্রেজার দিয়ে কাজ করে। আমি তাদের বারবার বলেছি, তারা যেন শ্রমিক দিয়ে কাজ করে। তারপরও তারা যদি শ্রমিক ছাড়া ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটে, তাহলে তাদের বিল দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মাজহারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি পাশ কাটিয়ে বলেন, আপনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *