ঈদের ১১ দিনে সড়কে ২০৭ জনের প্রাণহানি

জাতীয় লিড ১

ডেস্ক রিপোর্ট : ঈদুল আজহার আগে-পরে ১১ দিনে দেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৫৮টি। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২০৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৮৯ জন। নিহতদের মধ্যে ২৯ জন নারী ও ১৭ জন শিশু রয়েছে। ৭৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৮৭ জন। দুর্ঘটনায় ৪৩ জন পথচারী এবং যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩২ জন। এই সময়ে ৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছেন। ২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (২৬ জুলাই) সংবাদ মাধ্যমে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমানের পাঠানো ঈদুল আজহা উদযাপনের সময় সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে এই চিত্র দেখা যায়। গত ১৪-২৪ জুলাই সময়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। সংগঠনটি ৭টি জাতীয় দৈনিক, ৫টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল এবং ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ৮৭ জন, বাস যাত্রী ১২ জন, ট্রাক-পিকআপ যাত্রী ৮ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার যাত্রী ১৩ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী (সিএনজি-ইজিবাইক-অটোরিকশা-লেগুনা) ৩১ জন, নসিমন-মাহিন্দ্র-চান্দেরগাড়ি যাত্রী ১০ জন, বাইসাইকেল আরোহী ৩ জন নিহত হয়েছেন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৯টি জাতীয় মহাসড়কে, ৬৬টি আঞ্চলিক সড়কে, ১৪টি গ্রামীণ সড়কে এবং ১৯টি শহরের সড়কে সংঘটিত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৬টি মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৫৪টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ৪২টি পথচারীকে চাপা/ধাক্কা দেওয়া এবং ১৬টি যানবাহনের পেছনে আঘাত করার কারণে ঘটেছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, নিহতদের মধ্যে সেনা সদস্য ১ জন, বিজিবি সদস্য ১ জন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যাপক ১ জনসহ দেশের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদরাসার শিক্ষক ৬ জন, স্থানীয় সাংবাদিক ৩ জন, মসজিদের ইমাম ২ জন, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪ জন, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ৭ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ১৪ জন, পোশাক শ্রমিক ৬ জন, সাইকেল মেকানিক ১ জন, রং মিস্ত্রি ১ জন, কাঠ মিস্ত্রি ১ জন, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ২ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ৪ জন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন ছাত্রসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৭ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার ১০টি প্রধান কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন; বেপরোয়া গতি; চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা; বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল; তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সংগঠনটি ১০ দফা সুপারিশও জানিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে। সুপারিশগুলো হচ্ছে- দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বাড়াতে হবে; চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করতে হবে; বিআরটিএ’র সক্ষমতা বাড়াতে হবে; পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে; মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আলাদা পার্শ্বরাস্তা (সার্ভিস লেন) তৈরি করতে হবে; পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করতে হবে; গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে; রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের উপর চাপ কমাতে হবে; টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *