ঈদ যেন কষ্টের অভ্যর্থনা

সারাবাংলা

বগুড়া ব্যুরো:
খেয়ে না খেয়ে দিন কাটে তাদের। রমজান মাসে অন্যরা অনেক ভালো খাবার কিনে খাচ্ছেন। কিন্তু তারা রোজা করছেন পান্তা ভাত খেয়ে। এভাবে প্রায় কেটেই গেল রমজান মাস। আর কয়েকদিন পরেই ঈদ। ঈদকে ঘিরে তাদের কোনো স্বপ্ন নেই, মনে নেই আনন্দ। যেখানে দুইবেলা খাবার সংগ্রহ করতে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়, সেখানে ঈদের খুশি, অনেকটা দুঃসপ্ন। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে তারা নির্বাক হয়ে গেছেন। ঈদ যেন তাদের কাছে কষ্টের অভ্যর্থনা। সন্তানরা আবদার করেই চলেছে, কবে তারা নতুন জামা পাবে। তাদেরকে মিথ্যা আশ্বাসে শান্তনা দিয়ে যাচ্ছেন তারা। এমন কথা বলছিলেন গোলাাপি বেগম, রুমি বেগম, শাহার বানু সহিদা বেগমসহ আরও অনেকে। এরা সবাই বগুড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর ঘুঘুমারী বাঁধে আশ্রিত। পরিবারসহ ওই বাঁধে তারা বসবাস করে থাকেন। এখানকার বাসিন্দারা কৃষি শ্রমিকের কাজ ও মাছ ধরে তা বিক্রি করে সংসার চালান। তবে বর্তমানে তাদের হাতে কাজ নেই বললেই চলে। আর যমুনাতেও কমে গেছে পানি। এতে নদীতে তেমন মাছও পাওয়া যাচ্ছে না। যেটুকু মাছ পাওয়া যায়, সেগুলো বিক্রি করে সংসার চলছে না তাদের। যমুনা বাঁধেই তাদের কান্না আটকে আছে। এ কান্না নজরে পড়ছে না অন্য কারও। সন্তানদের মুখে একবেলা খাবার তুলে দিতেই তারা হাঁফিয়ে উঠছেন। ঈদের দিন সন্তানদের একটু ভালো খাবার খাওয়াতে পারবেন কী না এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের। আর শিশুদের নতুন জামা কিনে দেওয়াটা তাদের কাছে এখন দুঃস্বপ্ন। এখন পর্যন্ত তেমন কোনো সহায়তা তারা পাননি।
স্থানীয় মেম্বার ইফাজ উদ্দিন বলেন, এ বাঁধে প্রায় ৭০০ পরিবারের বসবাস। এরমধ্যে ৩০০ পরিবার একেবারেই অসহায়। অসহায় পরিবারদের মধ্যে ৬০ পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে। তাদেরকে নগদ ৩০০ টাকা, ৫ কেজি চাল, আধা কেজি মসুরের ডাল লাচ্ছা সেমাই, ছোলা, সয়াবিন তেল ও লবণ দেওয়া হয়েছে। তবে এ সহায়তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও রিলিফ কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আমরা ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছি। আরও বিতরণ করা হবে। আমরা চেষ্টা করবো সবাই যেন আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *