ঈশ্বরগঞ্জে চিরকুট লিখে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

সারাবাংলা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
বাবা মা ভাই বোন তোমরা আমাকে কমা করে দিও। বাবা তুমি এরা বাড়ির বাচ্চুর ছেরা জহিরুলরে কমা করিও না। এ আমার জীবনটাকে নষ্ট করে চলে গেছে। আমি এত বড় পাপ নিয়ে বাচে থাকতে পারব না। ভালো থেকো বাবা আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি, বাবা আমার বেঁচে থাকার অনেক স্বপ্ন ছিল কিন্তু ও আমাকে বেঁচে থাকতে দিল না। এমন একটি চিরকুট লিখে বিষপানে আত্নহত্যা করেছে মীম আক্তার (১৪) নামের এক স্কুল ছাত্রী।
ঘটনাটি ঘটেছে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের তেলুয়ারী গ্রামে। নিহত মীম আক্তার ওই গ্রামের সাইফুল ইসলামের কন্যা । সে স্থানীয় আঠারবাড়ি এমসি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। থানার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮ টার সময় পরিবারের অগোচরে বিষপান করে টয়লেটের পাশে পড়ে থাকে মীম । পরে মীম আক্তারের মা নেহেরা আক্তার দেখে বাবা সাইফুল ইসলামকে খবর দিলে তাৎক্ষণিক তাকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। মীমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়। গত শুক্রবার মমেক হাসপাতালে ময়না তদন্তে শেষে গতকাল শনিবার সকালে তেলুয়ারী গ্রামের নিজ বাড়িতে মীমকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় নিহত মীম আক্তারের পিতা মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে তেলুয়ারী গ্রামের মৃত বাচ্চু মিয়ার পুত্র জহিরুল মিয়া (১৯) নামে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। মীমের পিতা সাইফুল ইসলাম বলেন, পরিবার ও আশেপাশের লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি জহিরুল ও মীমের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। প্রেমের অবনতি হওয়ায় আমার মেয়ে বিষপানে আত্নহত্যা করেছে। যা টেবিলে খাতায় চিরকুট লিখে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একজন বলেন, লোকমুখে শুনেছি মীম আক্তার ও জহিরুলের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পাশাপাশি বাড়ি থাকায় তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে ছেলেটা প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করলে মেয়েটা বিষপানে আত্মহত্যা করে।
এ ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত জহিরুল মিয়া পলাতক রয়েছে। এ ছাড়াও তার মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের মিয়া বলেন, এই সংক্রান্তে অভিযোগ এর ভিত্তিতে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *