ঈশ্বরগঞ্জে মাদ্রাসা সুপারকে আসামি করে আদালতে মামলা

সারাবাংলা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে কাজির বলসা দাখিল মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রোববার উচাখিলা ইউনিয়নের কাজির বলসা গ্রামের কাজী মোশাররফ বাদী হয়ে মাদ্রাসা সুপার নজরুল ইসলামসহ সাত জনকে আসামি করে এই মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে অবৈধভাবে কমিটি গঠন করে মাদ্রাসায় বিভিন্ন অন্যায় দুর্নীতি করে আসছিল। বাদী মোশাররফ হোসেন এই সকল কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করে কমিটির বিরুদ্ধে মামলা করায় আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে মারপিট করার সুযোগ খুঁজে আসছিল। গত ৯নভেম্বর আমার ছোট ভাই মাদ্রাসার অফিস সহকারী মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে নজরুল ইসলামের সঙ্গে অফিসিয়াল বিষয় নিয়ে কথার কাটাকাটি হয়। খবর পেয়ে আমি মাদ্রাসার সামনে পৌঁছুলে আসামীগণ পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আমার উপর হামলা চালিয়ে মারাত্মক আহত করে।
এব্যপারে অফিস সহকারী কাজী মাহমুদুল হাসান জানান, আমি সারাদিন মাদ্রাসার বিভিন্ন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। সারাক্ষণ কাজ করার পর ক্ষান্ত হয়ে পড়ি। ঘটনার দিন এবতেদায়ী শাখার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর ইংরেজি বিষয়ের অ্যাসাইনমেন্টের খাতা মূল্যায়ন করতে বললে আমি অফিস সহকারি আমার খাতা দেখার দায়িত্বনা বলি। এতে সুপার ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গালাগাল করতে থাকে। আমি সুপারের অসদাচরণের বিষয়টি আমার ভাইকে জানিয়ে বিচারের উদ্যেশ্যে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ঈশ্বরগঞ্জ চলে আসি। পরে আমার ভাই বিষয়টি জানতে গেলে সুপারের অনুগত সন্ত্রাসী মাসুম, মাজেক, জুয়েল ও সুপার নিজে আমার ভাইকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা আমার ভাইকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরের দিন ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। আমি আহত ভাইকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে চলে যাই। আমাকে হয়রানি করার জন্য সুপার নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর ভাংচুর করে পরিকল্পিত ভাবে আমাদের উপর দোষ চাপিয়ে থানায় মামলা করে। আমি বৃহস্পতিবার ১২নভেম্বর আমার পারিবারের লোক জনের উপরে হামলা ও মিথ্যা মামলার বিচার দাবীতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপসহ আইনগত ভাবে ন্যায় বিচার পেতে অভিযোগ দায়ের করেছি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *