ঈশ্বরদী : দুর্বিসহ জীবন-যাপন জেলেদের

সারাবাংলা

মাহফুজুর রহমান শিপন, ঈশ্বরদী থেকে:
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মায় বর্ষাকালের ভরা মৌসুমেও মাছের সংকট দেখা দিয়েছে। হার্ডিঞ্জ সেতু পয়েন্ট, উজানে ও ভাটিতে প্রতিদিনই জেলেরা দিন-রাত নদীতে নৌকা ও জাল নিয়ে চষে বেড়ালেও মাছের দেখা মিলছে না। পদ্মা তীরবর্তী পাকশী ইউনিয়নের গুড়িপাড়া, সাঁড়া ও লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের জেলেপাড়ার জেলেদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্বিসহ জীবনের তথ্য জানা গেছে। মাছ না পাওয়ায় ঈশ^রদীর জেলে পরিবারগুলো মানবেতর জীবন-যাপন করছে। গুড়িপাড়ার জেলেদের সরদার অসিত কুমার বলেন, প্রতিদিনই নৌকা ও জাল নিয়ে নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছে। কোনোদিন কেউ দু’য়েকটা পায়, আবার পায়ও না। দুই বছর আগেও এই অবস্থা ছিল না। মাছ ধরে ভালোভাবেই সংসার চলতো। এখন মাছের অভাবে এলাকার জেলেরা মানবেতর জীবন-যাপন করছে। মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা গুড়িপাড়ার ৬০ ঘর আদিবাসী পরিবারের একই অবস্থা বলে জানান তিনি। এখন দু’বেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ না জানায় বেকার জীবন-যাপন করছেন এলাকার জেলেরা। গুড়িপাড়ার অশোক সাহানি বলেন, সারারাত নদীতে থেকেও কেউ এক পোয়া, কেউবা আধা কেজি মাছ নিয়ে বাড়ি ফেরেন সকালে। এই মাছ বেচে সংসারের অন্য খরচ চলে না।
ঈশ্বরদী মাছ বাজারের আড়তদার আব্দুল আজিজ বলেন, জেলেরা সারাদিন মাছ ধরে সন্ধ্যার পর হতে রাত ১০ পর্যন্ত আগে মাছ নিয়ে আসতো। আগে পদ্মায় ইলিশ, রিঠা, বাচা, চিংড়ি, গাঙগারি, বাঁশপাতা, পিয়ালি, কাগচিমাছসহ হরেক রকম মাছ সরবরাহ হতো। রাতের মাছ পাবনা-সিরাজগঞ্জসহ দেশের অন্য এলাকায় রাতেই চালান হতো। আবার রাতে ধরা মাছ সকালে আড়তে সরবরাহের পর স্থানীয় বিভিন্ন হাট-বাজারে পাইকারি বিক্রি হয়ে যেত। এখন রাত জেগে বসে থাকলে কোনো কোনো দিন ১০-২০ কেজি মাছ সরবরাহ হয়। আবার হয়ও না। অসহায় জেলে পরিবারের ভাতার বিষয়ে পাকশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, এখনও সব বয়স্ক এসব আদিবাসী নারী-পুরুষ ও বিধবা নারীর ভাতার ব্যবস্থা করা যায়নি। পর্যায়ক্রমে তালিকাভুক্ত করা হবে। ঈশ^রদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, আমাদের কাছে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বা চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যেসব আবেদন বা নাম আসে, তাদের ভাতার অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *