উখিয়ায় ছেলের অত্যাচারে ঘর ছাড়া বৃদ্ধ বাবা

সারাবাংলা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম, উখিয়া থেকে:
যে ছেলেকে বড় করতে সারা জীবন কষ্ট করেছেন কৃষক বাবা। সেই ছেলে জমি ও বাড়ির লোভে বাবাকেই ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে নিষ্ঠুর দুই সন্তান। বর্তমানে ওই বৃদ্ধ পরের ঘরে বসবাস করছেন। খাওয়া-দাওয়া ও চলছে প্রতিবেশির বাড়িতে। এভাবে একমাস হলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন ওই হতভাগা বাবা। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের তুতরবিল গ্রামে। বৃদ্ধের নাম বদিউর রহমান (৭৮)। বাড়ি ছাড়ার পর শনিবার দুপুরে বৃদ্ধ বদিউর রহমান তার দ্বিতীয় পুত্রের সহযোগীতায় উখিয়া থানায় ছেলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বৃদ্ধের স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে প্রায় এক বছর। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সত্তোর্ধ বৃদ্ধ বদিউর রহমানের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন কয়েক বছর আগে। ছেলেদেরও বিয়ে করিয়েছেন তিন। তার স্ত্রী মৃত্যু পরপরই ছেলেদের জায়গা সম্পত্তি মৌখিক ভাবে ভাগ করে দেন। সম্পত্তির ভাগাভাগি পরপরই বড় ছেলে মো সিরাজ (৩৮) ও ছোট ছেলে মো ইসমাইল (৩২) দুজনেই বৃদ্ধা বাবাকে নিজের ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। এর মধ্যে মেজ ছেলে নূর কবির (৩৫) এর ঘরে আশ্রয় নিলে মেজ ছেলে হত্যা ও গুম করার হুমকি দিয়ে আসছে সিরাজ ও ইসমাইল। এমনকি মেজ ছেলে নূর কবিরের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘর লুটপাট ও ভাংচুর করেছে সিরাজ ও ইসমাইল। নুর কবির জামিনে মনজুর হয়ে নিজ বাড়িতে এসে দেখে সেখানে কিছুই নেই সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে সিরাজ ও ইসমাইল এবং ঘরটিও ভেঙে দিয়েছে। এখন ঘর ছাড়া তার মেজ ছেলে নুর কবিরও। বৃদ্ধ বাবা বদিউর রহমান (৭৮) এর দাবি, ছেলে আমাকে খেতে দেয় না, কিছু বললেই শুধু মারে। প্রায় আমাকে ধরে ধরে মারে। এক সপ্তাহ আগেও আমার ছোট ছেলে ইসমাইল আমার বাম চোয়ালে জোরে চড় ও কিল ঘুষি মারে। এরপর বাধ্য হয়ে প্রতিবেশিদের পরামর্শে বাড়ি ছেড়ে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছি। খাওয়া দাওয়া পরে বাড়িতে বলছিলেন এই বৃদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, আমি একজন অসহায় মানুষ ছেলের অত্যাচারে আজ আমি ঘর ছাড়া। একমাস আগেও আমার বুকের মধ্যে উঠে ‘দা’ নিয়ে আমাকে জবাই করে মেরে ফেলার চেষ্টা করলে আশেপাশের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে। আমি কোনো কথা বললেই মারধর করে।
প্রতিবেশি শামশুল আলম বলেন, সিরাজ ও ইসমাইল তারা দু’জন চরম অভদ্র এবং অসামাজিক মানুষ। বৃদ্ধ বদিউর রহমানকে প্রায়ই তার বড় ছেলে সিরাজ ও ইসমাইল নির্যাতন করে। দিনের পর দিন খেতে দেয় না। এ নিয়ে সামাজিকভাবে অনেক বারই শালিশ হয়েছে কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ বৃদ্ধ প্রতিবেশির ঘরে বসবাস করছেন। এ ঘটনায় মেজ ছেলের সহযোগীতায় বৃদ্ধ বদিউর রহমান থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলেও যোগ করেন।
রাজাপালং ইউনিয়নের ১ নং ইউপি সদস্য বলেন, তাদেরকে নিয়ে একাধিকবার মিমাংসার প্রচেষ্টা করেও আমি ব্যর্থ হয়েছি। সিরাজ ও ইসমাইল শান্তি ভঙ্গ করছে। এ বিরোধের নিষ্পত্তি আমার দ্বারা অসম্ভব। উখিয়া পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহম্মেদ সঞ্জুর মোরশেদ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তবে এই বিষয়ে এসআই মামুনকে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *