উখিয়ায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস, দিনে দিনে বাড়ছে বসতি

সারাবাংলা

মোহাম্মদ ইব্রাহিম, উখিয়া থেকে:
উখিয়ার পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে হাজারো পরিবার। পাহাড়ের পাদদেশে, ওপরে ও খাদে তাদের বাস করতে দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে উখিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ-শিশুর মৃত্যু হলেও ঐসব পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়নি। তবে বর্ষা নামলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনদের নিরাপদে সরে যাওয়ার প্রচারণা চালানো হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বসবাসের সুযোগ পেয়ে অবৈধ বসতি পরিবারের বিস্তৃতি দিন দিন আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ এলাকার পাহাড়গুলোর ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করেছে। তাতে দেখা গেছে এ দুই উপজেলায় বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন পাহাড়গুলোর ৭৫ শতাংশই বালু মিশ্রিত। যেখানে বসতি তো দূরের কথা কোনো প্রকার অবকাঠামো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত নয়। পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য নেচার অব বাংলদেশ উখিয়া শাখার সভাপতি মুহাম্মদ ইমরান জানান, সরকারি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব এলাকার পাহাড় ও জমিজমাগুলো সংরক্ষিত থাকলেও কতিপয় অসাধু বনকর্মীদের কারণে বিস্তীর্ণ বনভূমি সরকারের হাতছাড়া হয়ে গেছে। জবর দখল, পাহাড় কেটে শ্রেণি পরিবর্তন, পাহাড়ের ওপর, পাহাড়ের ঢালু ও নিচে অসংখ্য বসতবাড়ি গড়ে উঠেছে। এখানে বসবাসরত পরিবারগুলোর দুই-তৃতীয়াংশ ভূমিহীন। তাই তারা ঝুঁকি জেনেও উপায় না পেয়ে বসবাস করছে।
উখিয়া ও ইনানী বন রেঞ্জের আওতাধীন মনখালী, ছেপটখালী, জুম্মাপাড়া, মো. শফির বিল, ইনানী জুমের ছড়া, সোনাইছড়ি, পাইন্যাশিয়া, তুতুরবিল, হরিণমারা, তেলখোলা, মোছার খোলা, হাতিরঘোনা, মধুরছড়া, মাছকারিয়া, দোছরী, থিমছড়ি, তুলাতলি, সোনারঘোনা, ডেইলপাড়া, ভালুকিয়া আমতলী, চিকনঝিরি পাগলির বিলসহ প্রায় শতাধিক পাহাড় দখল করে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে হাজারো পরিবার। উখিয়া কলেজের অধ্যাপক তহিদুল আলম তহিদ জানান, উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন সু-উচ্চ পাহাড় পর্বত টিলায় ঝুঁকি নিয়ে অসংখ্য পরিবার বসবাস করছে। বন বিভাগ, প্রশাসন তথা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে বারবার পদক্ষেপ নিয়েও ব্যর্থ হচ্ছে। এর কারণ ঝুঁকিতে বসবাসরত পরিবারগুলোর জন্য আগে আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যে কারণে ঐসব পরিবারগুলো নিশ্চিত মৃত্যুপুরীতে বসবাস জেনেও দখল ছাড়তে নারাজ।
ইনানী বন রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তোসাদ্দেক হোসেন বলেন, বনকর্মীদের বাধা উপেক্ষা করে স্থানীয় লোকজন পাহাড় দখল করে স্থাপনা তৈরিপূর্বক পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। এসব অবৈধ দখলকারী অনেকের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং ইনানীর বিস্তীর্ণ পাহাড়ে অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য বারবার বলা হয়েছে। তারা শুনেও না শোনার ভান করে নির্বিঘ্নে বসবাস করে যাচ্ছে। ইনানী শেখ রাসেল জাতীয় উদ্যান বনরক্ষা সহায়ক কমিটির সভাপতি শহিদুল¬াহ কায়সার জানান, ইনানীর জাতীয় উদ্যান রক্ষা করে জীববৈচিত্র্য ও বন সম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটন স্পটের আকর্ষণ ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে যাবতীয় অবৈধ কর্মকাণ্ড ও অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে কমিটি সোচ্চার হয়েছে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাজমুল হুদা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বন সম্পদ অবৈধ দখলকারী ও পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের সঠিক তথ্যউপাত্তসহ অভিযোগ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *