উচ্চশিক্ষায় বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি কাদেরের

জাতীয়

ডেস্ক রিপোর্ট: উচ্চশিক্ষা এবং উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

রোববার মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের পক্ষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে তিনি এ দাবির কথা জানান।

এসময় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, কর্নেল (অব.) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ দফতর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।

ভাষা শহীদ দিবস উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের উচ্চ শিক্ষা এবং উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবি জানান। এর পাশাপাশি জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলাকে অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের উদার অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শেকড় উৎপাটনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে পুষ্পার্ঘ অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ফুল দেয়ার সময় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দলটির আরও চার নেতা শহীদ মিনারে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখ-রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।

রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

অনন্য এই ইতিহাসকে স্বীকৃতি দিয়ে ইউনেসকো ১৯৯৯ সালে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। সেই থেকে বাঙালির আত্ম-অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দিনটি মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারা বিশ্বেই পালিত হয়ে আসছে।

পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকের বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, সেই মহান ভাষাশহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে জাতি।

গতরাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন। এরপর থেকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *