উত্তাল মধুপুর

সারাবাংলা

মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ
মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুর জেলার মধুখালী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মধুপুর এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে গ্রামবাসী। শনিবার দুপুরে মধুপুর বটতলা বাজারে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবীদ ও ভুক্তভোগী গ্রামবাসী অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাজাহান খান লিখিত বক্তব্যে বলেন, মধুপুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক আব্দুস সামাদ খানের পরিবার দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর প্রতিবাদ করায় তার ছেলে সোহেল খানকে ইয়াবা দিয়ে গ্রেফতার করিয়েছে। এখনও আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তারা রাতের আঁধারে বাড়িতে মাদক রেখে আমাদেরও ফাঁসাবে বলে হুমকি দিচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। সোহেলের স্ত্রী শিখা বেগম (২২) বলেন, তার স্বামী ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। এক লোককে দিয়ে ডেকে নিয়ে মধুখালী রেলগেটের সজিবের বাড়িতে আটকে ইয়াবাসহ তাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। ৩নং ওয়ার্ডের কমিশনার প্যানেল মেয়র মির্জা আব্বাস হোসেন বলেন, সামাদ খানের পিতা ছিলেন গ্রাম পুলিশ। কিন্তু মাদক ব্যবসা করে সে এখন গাড়ি ও জমির মালিক হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তার কারণে এলাকার তরুণ সমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, ২০১৭ সালে তিন হাজার একশ পিস ইয়াবা, বিদেশী মদ ও যৌন উত্তেজক বড়ি, পুলিশের বুট ও মাদক বিক্রির ৭৭ হাজার টাকা সহ সামাদ খান ও তার মা রোকেয়া বেগমকে গ্রেফতার করে ফরিদপুর র‌্যাব-৮। ওই মামলার সাক্ষী মধুপুর গ্রামের হায়দার আলী খান (৫৫) বলেন, তার সামনেই এসব মাদক ও মালামাল জব্দ করলেও সামাদ খান তাকে ভয় দেখিয়ে আদালতে মিথ্যা সাক্ষী দিতে বাধ্য করে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে ফরিদপুর চিনিকল শ্রমজীবী ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ব্যবসায়ী মুন্সি এনায়েত হোসেন জানান, গ্রামে ইয়াবা কেনার জন্য প্রতি ঘণ্টায় কমপক্ষে ২৫টি মোটর সাইকেল প্রবেশ করে। তিনি বলেন, তার দোকান ভাড়া নিয়ে সোহেল টেইলারিংয়ের ব্যবসা করতো। দশ বছর আগে একদিন শুনি তার দোকানে ফেনসিডিল পাওয়া গেছে। সোহেলের মতো অনেক তরুণকে মাদক দিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেনÑ উপজলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুজ্জামান বাবলু মিয়া, নওপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম খান, স্কুল শিক্ষক মাসুদ খান, মজিবুর রহমান, মাহবুবুর রহমান বাকী প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনের পরে মধুখালী-নওয়াপাড়া সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে স্থানীয়রা।
এ ব্যাপারে সামাদ খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, র‌্যাবের এক সদস্য অন্যায়ভাবে তার গাড়ি আটকের ঘটনায় তিনি এক র‌্যাব কর্মকর্তার নামে একটি মামলা করেন। এর প্রতিশোধ নিতেই রাতের আঁধারে আমাকে ও আমার মাকে ধরে নিয়ে একই রাতে একই অভিযোগে তিনটি মামলা দায়ের করে। পরে এসব মামলায় তদন্ত শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। সোহেল খানের বিরুদ্ধে উল্টো মাদক ব্যবসার অভিযোগ করে বলেন, তার পিতাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করলে তারা প্রভাব খাটিয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *