উন্নয়নের ছোঁয়ায় পাল্টেছে চিত্র

সারাবাংলা

এম. পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ থেকে : গ্রামীন জনপদে উন্নয়নের স্বপ্নের ছোঁয়ায় বদলেছে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ১নং তেলিগাতি ইউনিয়ন। সড়ক ও জনপদ দফতরের উদ্যোগে পিংগরিয়া থেকে হেড়মা বাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার কার্পেটিং রাস্তা পাইলিং, কালভার্ডসহ ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া উন্নয়ন হয়েছে ৭২টি ছোট বড় ইট সোলিং রাস্তা, দৃশ্যমান সেতু ১টি, পুল ৩টি, বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হয়েছে গ্রামগুলো। নির্মিত হয়েছে ২টি কমিউনিটি ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন, ঢুলিগাতি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৪ তলা নতুন ভবন, হেড়মা সুরেন্দ্রনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ তলা ভবনের নির্মাণাধীন কাজ চলমান রয়েছে। নতুন ভবনের জন্য ৩টি বিদ্যালয় ভবন টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরেজমিনে স্বাধীনতার পরবর্তী দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত এক সময়ে নদী নালা খাল বিলে ঘেষা ১৮.১২ বর্গ কিলোমিটারের আয়তনে এ উপজেলার তেলিগাতি ইউনিয়ন। জেলা শহর থেকে ১৮ কিলোমিটার ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্র থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরত্বের এ ইউনিয়ন। রয়েছে ইতিহাস ও ঐতিহ্য। স্বাধীনতা যুদ্ধে অগ্রণী ভ‚মিকা সংগ্রামী মুক্তিযোদ্ধাদের। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রী পরিষদের সাবেক কৃষি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আব্দুল আজিজ এর জন্মস্থান।

জানা যায়, এ ইউনিয়নে জনসংখ্যা রয়েছে ২৭ হাজারেও বেশি। গ্রাম রয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৯৬৩ ও নারী ১৩ হাজার ৬৩ জন, ভোটার রয়েছে প্রায় ১১ হাজার, পরিবার রয়েছে ৩৩শ। ইউনিয়নের বাসিন্দাদের আয়ের উৎস কৃষি ও মৎস্য চাষের ওপর। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গত ৫ বছরে এ ইউনিয়নে গ্রামীন জনপদের অবকাঠামো উন্নয়নে হয়েছে আমুল পরিবর্তন। দীর্ঘদিনের জনগণের কঙ্খিত স্বপ্ন আজ বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। এদিকে মাঠে বইছে ভোটের হাওয়া। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় একাধিক প্রার্থী। স্থানীয় ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে পোষ্টার লিফলেটে ছেয়ে গেছে গোটা ইউনিয়ন। আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ইউনিয়নের গ্রামগুলোর মাঠ এখন সরগরম হয়ে উঠেছে। চায়ের দোকানগুলো থেকে শুরু করে সবত্রই চলছে আলোচনা। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদিকা মোর্শেদা আক্তার, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খান নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান হাওলাদার ও রুমেন হাওলাদার তারা গোটা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে লিফলেট, পোস্টার টানিয়েছেন।

বর্তমান চেয়ারম্যান মোর্শেদা আক্তার বলেন, জোট সরকারের আমলে ২০০৩ সালে ১৩ নভেম্বর তার স্বামী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত শ্রমিক লীগ নেতা খান সাদেকুল ইসলাম সাদুকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তৎকালীন অনেক নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছে তার পরিবার। তার পরেও আওয়ামী লীগের হাল ছাড়েনি। ২০০৪ সালে সে সময়ের বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বাড়িতে এসেছিলেন। ২০১৬ সালে দলীয় প্রতিক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জনগনের পাসে থেকে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন। বিগত ৫ বছরে এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে সাধারণ জনগণ এ উন্নয়ন ধরে রাখতে পুনরায় তাকে নির্বাচিত করবেন। দলীয়ভাবে দলীয় মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। অন্যদিকে নতুন নেতৃত্বে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশিরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি গ্রাম হবে শহর এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুনদের নেতৃত্বের মাধ্যমে সাধারণ ভোটাররা পরির্তন চায় পাশাপাশ নিজ দলীয় প্রতিক পাবেন বলে আশা করছেন একাধিকরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *