উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অন্যস্থানে বদলি রংপুরে ঈদে বেতন বোনাস নিয়ে সংশয়ে দেড় হাজার শিক্ষক

সারাবাংলা

জাহিদুল ইসলাম জাহিদ, রংপুর ব্যুরো:
রংপুর সদর উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেড় হাজার শিক্ষক এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার সংশয় নিয়ে  উপজেলা শিক্ষা অফিসে সামনে তীব্র প্রতিবাদ জানান। আসন্ন কোরবানী ঈদের উৎসব বোনাস ও একই সঙ্গে জুন মাসের বেতন নিয়ে তারা শঙ্কায় রয়েছে। জেলা নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মোঃ মফিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রংপুর সদর উপজেলা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়ে গত ৭ জুলাই চিঠি দেওয়া হয়েছে। জেলা হিসাব রক্ষক কর্মকর্তার ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, উপজেলা শিক্ষা অফিস, সদর, রংপুর এর ডিডিও কোড ১২৪০২০৪১০৮০৪৫ কোডের পরিবর্তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এর ডিডিও কোড ১২৪০২০৪৯১০৮০৪৫ কোত হতে বেতন ভাতা গ্রহণ করায় শিক্ষকগণের জুন/২১ এবং উৎসব ভাতার বাজেট ঘাটতি থাকায় সহকারী শিক্ষকগণের বেতন ভাতা ও বোনাস পরিশোধ করা যাচ্ছে না। এদিকে, এক মাসের বেতন এবং ঈদে উৎসব বোনাস না পাবার শঙ্কায় ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা। তারা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানিয়েছেন।নাম প্রকাশ না করে একাধিক শিক্ষক বলেন, অধিকাংশ শিক্ষকই বেতনের উপর নিভর্রশীল। তারা যদি ঠিকমত বেতন না পান তাহলে এই লকডাউনে সংসার চলবে কী করে। তাছাড়া ক’দিন পরেই তো ঈদ সেই বোনাসও বন্ধ থাকবে তাহলে পরিবার নিয়ে চলা অসাধ্য হয়ে পড়বে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের এমন কান্ড, জ্ঞানহীন কাজে শিক্ষকরা হয়রানী হবেন তা কেন হতে হবে। আমরা কোন ধরণের ঝামেলা পোহাতে চাই না। আমরা ঈদের আগেই বেতন বোনাস চাই এমনটি দাবি করেছেন শিক্ষকরা। উপজেলা শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ১লা জুলাই তারা শিক্ষকদের বেতন ও বোনাসের জন্য বিল সাবমিট করেছিলেন। কিন্তু সেই ফাইল ফেরত পাঠানো হয়েছে। এদিকে গতল বুধবার বিক্ষুদ্ধ শিক্ষকরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছেন। প্রতিবাদ সভায় শিক্ষকরা বলেন, আমরা শিক্ষকরা বেতন ভাতার উপর নির্ভরশীল। কোরবানীতে পরিবার পরিজনদের জন্য এখন কিছু করতে পারিনি। বেতন বোনাস নিয়ে ধোয়াসায় রয়েছি। রংপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহজাহান সিদ্দিক জানান, আমি এখনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। তবে, বিভিন্ন শিক্ষক আমাকে চিঠিটি দিয়েছেন সেখান থেকে জেনেছি। তিনি বলেন, এটি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অদক্ষতার কারণে হয়েছে। তিনি বিষয়টি জেলা অফিসে এমনকি আমাকেও জানাননি। এ বিষয়ে তিনি দায়িত্বহীনতায় ছিলেন । তবুও আমি বিষয়টি আমার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি । এ নিয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো: আখতারুজ্জামানকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রংপুর জেলা শাখার সভাপতি মো. সাঈদ হোসেন, বাজেটে ঘাটতি থাকার কারণে শিক্ষকরা জুন মাসের বেতন পায়নি। তবে এ বিষয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। রংপুর জেলা নিরীক্ষা ও হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা মো: মফিদুল ইসলাম জানান, বরাদ্দ না থাকায় আমরা বেতন বোনাস দিতে পারছি না। তারা যদি বাজেট আনতে পারেন তাহলে দিয়ে দেয়া হবে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *