এক সপ্তাহে শেষ ধর্ষণ মামলার বিচার কার্য

আইন আদালত

সোমবার বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম এই মামলার রায় ঘোষণার দিন রেখেছেন বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি রনজিৎ কুমার মন্ডল জানান।

মোংলা উপজেলায় আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের এই মামলার অভিযোগ গঠন হয় ১২ অক্টোবর। আর রোববার (১৮ অক্টোবর) রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

এই মামলার আসামি আব্দুল মান্নান সরদার মোংলা উপজেলার মাকোড়ডোন গ্রামের ভূমিহীন আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকার প্রয়াত আহম্মদ সরদারের ছেলে।

মামলার নথি থেকে জানা গেছে, মাকোড়ডোন গ্রামের ভূমিহীন আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় পিতৃহারা সাত বছর বয়সী শিশুটি তার মামার কাছে থেকে বড়ো হচ্ছে। গত ৩ অক্টোবর বিকালে প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান সরদার বিস্কুট খাওয়ার প্রলোভন দিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ওইদিন রাতেই মেয়েটির মামা মোংলা থানায় আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোংলা থানার এসআই বিশ্বজিত মুখার্জ্জী ১১ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বেঞ্চ সহকারী গোপাল চন্দ্র পাল বলেন, গত ১২ অক্টোবর মামলাটির অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৩ অক্টোবর বাদীপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। ১৪ অক্টোবর চিকিৎসক, বিচারিক হাকিম, নারী পুলিশ সদস্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়্। ১৫ অক্টোবর আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয়্।

“রোববার বাদী ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এপিপি রনজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বলা আছে কোনো ধর্ষণের ঘটনায় আসামি সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়লে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করা যাবে। এই শিশু ধর্ষণের মামলাটি তারই প্রমাণ।

বাগেরহাটের আদালতের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে রায় ঘোষণার মধ্যে দিয়ে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নারী উন্নয়ন ফোরামের খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও সদর উপজেলা পরিষদ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিজিয়া পারভীন বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আন্তরিক থাকলে অল্প সময়ের মধ্যে যে বিচার কাজ শেষ হতে পারে এটি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এই বিষয়ে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী লিয়াকত আলীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *