এমসি কলেজে গণধর্ষণ মামলার চার্জশিট শিগগিরই

আইন আদালত

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রবাসে আলোচিত গণধর্ষণ মামলার চার্জশিট দ্রুত দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। এ মামলায় এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে আট আসামি। তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন চলছে অভিযোগপত্র তৈরির প্রক্রিয়া।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসামিদের জবানবন্দিতে গণধর্ষণের ঘটনাটি পরিষ্কার হয়েছে। একইসঙ্গে ওই গৃহবধূকে জোর করে ক্যাম্পাসে নেয়ার বিষয়টিও আসামিদের মুখ থেকে এসেছে। আসামিদের জবানবন্দিতে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনার বাইরে আরো কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে এখন পুলিশ তদন্ত করছে।

ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসামিরা ঘটনার জন্য একে অপরের ওপর দোষারোপ করেছে। ধর্ষণকারী হিসেবে নিজেরা নিজেদের রক্ষা করতে মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে। ফলে পুলিশ ঘটনার সঠিক তথ্য জানতে সব আসামিরই ডিএনএ সংগ্রহ করেছে। এখন ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষা। ডিএনএ রিপোর্ট এলেই ঘটনার অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এদিকে আসামিদের জবানবন্দি বিশ্লেষণের পাশাপাশি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীদের বক্তব্য নেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকেও মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় স্বামীর সাথে নিজেদের গাড়ি নিয়ে সিলেটের এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে বেড়াতে যান ওই গৃহবধূ। এসময় ছাত্রলীগের কিছু কর্মী প্রাইভেটকারসহ ছিনিয়ে নেয় গৃহবধূকে। এরপর স্বামীকে বেঁধে তারা ওই গৃহবধূকে দল বেঁধে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় এমসি কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর, অর্জুন, রবিউল, শাহ রনি, মাহফুজ, তারেক, রাজন ও আইনুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। আলোচিত এ ঘটনায় সিলেটজুড়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। এ ঘটনায় আলোচিত হয় টিলাগড় কেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতি।

মামলা তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- এ পর্যন্ত আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সাইফুর, অর্জুন, রবিউল, শাহ রনি, মাহফুজ ও তারেকের বক্তব্যে অনেক মিল পাওয়া গেছে। তবে- প্রধান আসামি সাইফুর প্রথমে ঘটনাটি তারেক, মাহফুজ ও রাজনের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলো। ঘটনার সঙ্গে তারাই জড়িত বলে জানিয়েছিলো। অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে সে মুখ খোলে। এবং এমসি’র ছাত্রাবাসের ভেতরে গাড়িতেই ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করে। তার সঙ্গে থাকা সবার নামও বলেছে।

আসামি তারেক ছিল এ ঘটনার অন্যতম উদ্যোক্তা। তারেক ওই প্রাইভেটকারটি চালিয়ে এমসি’র ছাত্রাবাসে নিয়ে যায়। আদালতে তারেক তার দোষ স্বীকার করেছে। তারেক, মাহফুজসহ আরো এক আসামি জানায়- স্বামীকে দূরে আটকে রেখে নতুন ছাত্রাবাসের ভেতরেই ধর্ষণ করা হয় ওই গৃহবধূকে। চারজন ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করেছে। জ্ঞান হারানোর কারণে বাকি দু’জন ধর্ষণ করেনি। পরে স্বামীর কাছে তুলে দেয়া হয় ওই গৃহবধূকে।

এমসি’র ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের ঘটনার পর ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা প্রাইভেটকারের চাবি ও টাকা পয়সা ছিনিয়ে রেখেছিলো। ঘটনার পর ওই গৃহবধূ স্বামীর গাড়ির চাবি দিয়ে দিতে অনুরোধ জানান। কিন্তু চাবি না দিয়ে তাকে উল্টো মারধর করা হয়। এবং ছাত্রাবাসের বাইরে বের করে দেয়া হয়। পরে নগরীর শিবগঞ্জে গিয়ে ওই বধূর স্বামী শাহপরান থানার ওসি আব্দুল কাইয়ুমকে মোবাইল ফোনে ঘটনা জানালে ওসি নিজেই ছুটে আসেন ঘটনাস্থলে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) জ্যোতির্ময় সরকার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, পুলিশ আসামিদের জবানবন্দি বিশ্লেষণ করছে। সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, এক্সপার্ট মতামত এবং ফরেনসিক রিপোর্ট প্রাপ্তির পর চার্জশিট দেবে। ফরেনসিক রিপোর্ট যত তাড়াতাড়ি আসবে ততো দ্রুত চার্জশিট আদালতে দেয়া হবে। আলোচিত এ ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সবকিছু বিশ্লেষণ করে ঘটনার সত্যতা নির্ভর চার্জশিটই আদালতে দাখিল করা হবে বলে তিনি জানান।

এমসি কলেজে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনাটি দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। দোষীদের শাস্তি দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *