এসে গেছে শীত

সারাবাংলা

দূর্বাঘাসে জমাট বাঁধা শিশির কণা
মাহফুজ ইসলাম সবুজ, বরিশাল ব্যুরো :
শীতের আবহাওয়া পরিবর্তনের পাশাপাশি শীতল হাওয়া মানুষের শরীর একটু শুস্ক হওয়ায় মনে করিয়ে দিচ্ছে ঋতুর পরিক্রমায় শীত শুরু হয়েছে। শীত এলেই দ্রুত পরিবর্তন ঘটে প্রকৃতি ও পরিবেশের। ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু এক অন্যরকম বৈচিত্র্যতা এনে দিয়েছে প্রকৃতিতে। এ যেন নতুন ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে প্রকৃতি। দিন দিন কম যাচ্ছে তাপমাত্রা। রাতের ঘন কুয়াশা ও ভোরে ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দু জানান দিচ্ছে শীত এসে গেছে। দিনের বেলায় আবহাওয়া কিছুটা গরম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে শীত অনুভূত হচ্ছে গ্রাম ও সহরবাসীর। রাতে লেপ, কাঁথা, কম্বল শরীরে মুড়াচ্ছে মানুষ। ভোরে কুয়াশার চাঁদরে মোড়ানো থাকছে চারদিক। সকালে চারদিকে কুয়াশার অপরূপ সৌন্দর্র্য এ যেন নতুন অনুভূতি। সূর্যদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই শিশির বিন্দু উঁকি মারছে, ঘাস, কলা পাতা-কচু পাতা, ধানের ডগা আর ফুল ও লাউ গাছের ডগায় সঙ্গে সঙ্গে মানুষের শরীরের শুষ্কতাও। শুধু তাই নয়, চুলের ফাঁকে ফাঁকে শিশিরের জাল বোনা আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা শীতের সকাল যেন মানুষের অঙ্গ প্রত্যঙ্গে শিহরণের ছোঁয়া দিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতি যেন শীতের ছোঁয়ায় আরও অপুরূপ ধারন করছে। রূপের ডালা সাজিয়ে বসে থাকছে প্রকৃতি। নীরব প্রকৃতি, চারিদিকে শীতল হাওয়া। দূর্বাঘাস কিংবা ধানগাছের পাতায় মুক্তোদানার মতো জমাট বাঁধা আছে শিশির-কণা। ভোরের আলো ফোটার পর গ্রামের মানুষ যখন বেরিয়ে আসে, রক্তিম সূর্য তখন কুয়াশা ভেদ করে পূর্ব আকাশে হাজির হয় লাল আভা নিয়ে। দক্ষিণাঞ্চলসহ বরিশালের বিভিন্ন জেলা উপজেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য মতে এমনটাই উঠে এসেছে। এ ছাড়া মানুষের সাজ পোষাকেও পরিবর্তন দেখাদিচ্ছে। লেপ, তোষক, সোয়েটার, চাদর আর পশমী কাপড়ের খোঁজে ছোটাছুটি করছে মানুষ। লেপ, তোষকের দোকান, বিভিন্ন মার্কেট, ষ্টোর আর পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে তাদের আনাগোনা। বরিশাল সদর উপজেলার ১নং রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শীতের সবজি ও অন্যান্য শীতকালীন ফসল উৎপাদনের কাজে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের ব্যস্ততাও বাড়ে। নতুন ফসলের বীজ বুনতে মাটির বুকে চলে লাঙলের ফলা। হাট-বাজারে উঠেছে আগাম শীতকালীন বিভিন্ন সবজি। তবে বৈচিত্র্যময় হলেও শীত কখনোই উপভোগের হয় না খেটে খাওয়া মানুষের কাছে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কাছে টানে না তাদের। গ্রামীণ জনপদে ঢেলে দেওয়া প্রকৃতির এ সৌন্দর্য উপভোগের সময় নেই এসব কৃষকের। কাঁপন ধরা শীতের পদধ্বনি দুশ্চিন্তায় তারা। এ মানুষগুলোর কাছে শীত মানেই যেন কষ্ট। শীতের পদধ্বনি শঙ্কিত করে তুলেছে খেটে খাওয়া অভাবী মানুষদের। এদিকে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বর, সর্দি ও কাশিসহ নানা রোগে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি দেখা যায়। শীতজনিত রোগ থেকে রেহাই পেতে শিশুদের গরম কাপড় পরানো ও ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *