এ কেমন প্রেমের মাঝি? দেহ পুরে অঙ্গার

সারাবাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিয়ে নিয়ে আশংকা তৈরী হওয়ায় কুমিল্লায় প্রেমিকাকে এসিড দিয়ে ঝলসে দিয়েছে প্রেমিক। শরীরের ৫০ ভাগ পুড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খাদিজাকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। প্রেমিক হারুনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে খাদিজার অবস্থার অবনতি হচ্ছে দ্রুত।

এক বছর আগে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার মোসলেম মিয়ার মেয়ে খাদিজার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক হয় চট্টগ্রামের ডবলমুড়িংয়ের হারুনের। চার মাস আগে খাদিজার পরিবারের সঙ্গে হারুনের বনিবনা না হওয়ায় বিয়ে নিয়ে সন্দেহ তৈরী হয়। এরই জেরে গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বাড়ির জানালা দিয়ে খাদিজার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে হারুন।

খাদিজার মা জানান, ‘তার উদ্দেশ্য ছিলো পায়ে এসিড মারলে পা কালো হয়ে যাবে, তখন আর কোন ছেলের কাছে মেয়ের বিয়ে দিতে পারবো না। হারুন তখন আমার মেয়েকে বিয়ে করবে।’ শরীরে ৫০ ভাগ পুড়ে যাওয়া খাদিজাকে বাঁচাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। কিন্তু মেয়ের উন্নত চিকিৎসার অর্থ যোগানে হিমশিম খাচ্ছেন তার বাবা।

খাদিজার বাবা মোসলেম মিয়া বলেন, ‘আমার মেয়ের চিকিৎসা খরচ এই মুহূর্তে আমি চালাতে পারছিনা। আমার মেয়েটাকে যদি সরকার বাঁচিয়ে দেয় আমি সবচাইতে খুশি হব।’ খাদিজার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। খুব দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না হলে খাদিজার জীবন নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের রেজিষ্ট্রার মাহবুব ইবনে মোমেন বলেন, ‘৫০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। এজন্য আমরা শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার করছি।’

এদিকে, হারুনকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া খাদিজার উন্নত চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার বহনের আশ্বাস দিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তার সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিলো, বিয়ে হবে এমন একটা কথা ছিলো। যখন দেথলো স্বপ্নটা ভেঙে যাচ্ছে তখনই তাকে এসিডদগ্ধ করে যাতে তার কোখাও বিয়ে না হয়। হারুনের সঙ্গেই যেন বিয়ে তাই সে এসিড নিক্ষেপ করেছে বলে আমাদের জানিয়েছে।’

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *